📌 কলম্বিয়া বামপন্থি সরকারের পরিবর্তে ডানপন্থি সরকারের অধীনে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপন করে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে কলম্বিয়া। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে 'জেরুজালেমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন' বলে উল্লেখ করেছেন
কলম্বিয়া বর্তমান কট্টর ডানপন্থি সরকারের অধীনে ইসরাইলের বিতর্কিত জেরুজালেম শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাস স্থাপন করেছে। এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রসহ অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে কলম্বিয়া, যারা জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই দূতাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলম্বিয়া জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপন করে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
- 📌 ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন, ‘এটি ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, একই সঙ্গে জেরুজালেম শহরের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন’
- 📌 কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা গত জুলাইয়ে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পূর্বসূরি বামপন্থি সরকারের নীতির বিপরীত
- 📌 আগের সরকার গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করত, কিন্তু নতুন সরকারের নীতি সম্পূর্ণ বিপরীত
- 📌 গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের দাবিকেও স্বীকৃতি দেয় কলম্বিয়া, যা ১৯৮১ সাল থেকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করা হয়
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো ইসরাইলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রেখেছে। তাদের অবস্থান হলো, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের মধ্য দিয়ে জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারিত হওয়া উচিত। তবে কলম্বিয়া এই ঐকমত্য ভাঙ্গে। ইসরাইলের পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জেরুজালেম শহরে অবস্থিত।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন। এর মাধ্যমে জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ছোট দেশ একই পথে হেঁটেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ফিজি, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পাপুয়া নিউগিনি ও প্যারাগুয়ে। জাতিসংঘের সদস্য নয় এমন কসোভো ও সোমালিল্যান্ডও জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস হিসেবে বিবেচিত কার্যালয় খুলেছে।
ইসরাইলের প্রকাশ্য সমর্থক আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও তার দেশের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল এবং পরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।
"ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। একই সঙ্গে জেরুজালেম শহরের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।"
গত আগস্টে কলম্বিয়ার নতুন কট্টর ডানপন্থি সরকার গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের দাবিকেও স্বীকৃতি দেয়। ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করে ইসরাইল। ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার ইসরাইলি পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের অবস্থান অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং বর্তমানে এটি ইসরাইলি সামরিক দখলদারত্বের অধীনে রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জেরুজালেম (ইসরাইল), কলম্বিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা (কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট), গিদিওন সার (ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!