📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে তাদের টেকসইভাবে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ
জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উজাগর করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুতদের টেকসইভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে এবং আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত, এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাস করছেন
- 📌 ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশই সংঘাতপ্রবণ ও ভঙ্গুর দেশগুলোতে পৌঁছায়
- 📌 পূর্ব আফ্রিকায় বন্যার কারণে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় আরও ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে
- 📌 সাব-সাহারান আফ্রিকার শরণার্থী শিবিরে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর ১০০ দিনের বেশি বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে
- 📌 কপ-৩১ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বসবাস করছেন। ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, এই বাস্তুচ্যুতদের টেকসইভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, তাদের বসবাসকারী এলাকাগুলোতে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
সংস্থাটির সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশনস) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেছেন, ‘সংঘাতপ্রবণ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাস রয়েছে এমন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বেঁচে থাকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু তহবিলের অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রতিবেদনে সুদানের এক শরণার্থীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালের জুনে আল-ফাশিরে সংঘাতের কারণে পালিয়ে চাদের পূর্বাঞ্চলীয় ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। তিনি জানান, কখনো কখনো নিরাপদ পানির সন্ধান না পেয়ে তাকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তীব্র গরমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এছাড়াও, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন দেশগুলোতে ফিরে গেছেন, যেগুলো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে এসব দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীরা আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সিরিয়ায় সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ দেশে ফিরেছেন, কিন্তু সেখানে পানির সংকট আরও তীব্র হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতের ধরন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। গত মে মাসে ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
"সংঘাতপ্রবণ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাস রয়েছে এমন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বেঁচে থাকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, পূর্ব আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় আরও ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। সাহেল অঞ্চলে খরা, বন্যা ও সংঘাতের কারণে সীমিত সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে, এশিয়ার কিছু এলাকায় খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ছে।
তুরস্কের আনতালিয়ায় চলমান জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১-এর আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিবছর ৩০০ বিলিয়ন ডলার অর্থের প্রয়োজন। তবে বর্তমানে জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশের মতো অর্থ সংঘাতপ্রবণ ও ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে থাকা দেশগুলোতে পৌঁছায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, সিরিয়া, সুদান, চাদ, পূর্ব আফ্রিকা, সাহেল অঞ্চল, তুরস্কের আনতালিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আন্তন লেইস গার্সিয়া (ইউএনএইচসিআর সহকারী হাইকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কোটি (বাস্তুচ্যুত মানুষ), ৩০০ বিলিয়ন ডলার (জলবায়ু তহবিল), ৪০ লাখ (সিরিয়ায় ফিরে আসা), ১০০ দিন (বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ), ৩০ লাখ (আগামী বাস্তুচ্যুত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!