📌 মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর গোপন প্রতিবেদনে ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দেশটির অস্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি গোপন প্রতিবেদনে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে দেশটি গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ শিরোনামের এই মূল্যায়নটি গত আগস্টে সিআইএর বিশেষজ্ঞদের একটি দল তৈরি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলের পরিস্থিতিকে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিআইএর ‘রেড সেল’ ইউনিটের গোপন প্রতিবেদনে ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।
- 📌 আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে দীর্ঘদিনের অব্যাহতি ও নেতানিয়াহুর জোটের ভেতরের বিভাজন প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- 📌 গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে সামরিক অভিযানের কারণে রিজার্ভ সেনাদের বেসামরিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়টিও অস্থিতিশীলতার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 ইসরায়েলের অর্থনৈতিক চাপ, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
- 📌 আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহু বা তাঁর বিরোধী জোট কোনো পক্ষই ৬১টি আসন পেতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
- 📌 বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলে বিনিয়োগ ও নিয়োগ কমিয়ে দিলে বা আঞ্চলিক দেশগুলো সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে না পারলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
- 📌 প্রতিবেদনে ইসরায়েলের প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বৈষম্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 ইসরায়েলি নাগরিকত্বধারী এক ফিলিস্তিনি রাজনীতিক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
সিআইএর ‘রেড সেল’ ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মূল কারণ হিসেবে আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে সামরিক অভিযানের কারণে বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনাদের বেসামরিক জীবনে ফিরে আসার বিষয়টিও অস্থিতিশীলতার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এবং সামরিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপও দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে মূল্যায়নে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহু বা তাঁর বিরোধী জোট কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও, বিদেশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলে বিনিয়োগ ও নিয়োগ কমিয়ে দেওয়া বা আঞ্চলিক দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা না পারলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সিআইএর মূল্যায়নে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা ও অসন্তোষও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং প্রতিবেদনে তাদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, গত শুক্রবার ইসরায়েলি নাগরিকত্বধারী এক ফিলিস্তিনি রাজনীতিক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সময়ে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরও চারটি রাজনৈতিক দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আদালত বাতিল করেছে।
"আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, বিশেষজ্ঞদের দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর (নির্বাচন তারিখ), ৬১টি আসন (গঠন প্রয়োজনীয়), ২০ শতাংশ (ফিলিস্তিনি নাগরিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!