📌 পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে তিন খ্রিষ্টান পরিবারের সদস্যরা ১৮-২০ অক্টোবর মারধর ও দুর্গাপূজায় আচার পালনে বাধ্য করা হয়। একটি পরিবারের নারীকে প্রকাশ্যে শুদ্ধীকরণের নামে গোসল করানো হয়। পুলিশ তদন্ত করছে কিন্তু অভিযুক্তরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারের সদস্যদের ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর ধারাবাহিকভাবে মারধর ও ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় একজন নারীকে প্রকাশ্যে শুদ্ধীকরণের নামে গোসল করানো হয় এবং পরিবারগুলোর সদস্যদের দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে আচার পালনে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগী নারীরা জানিয়েছেন, তারা এখনো হুমকির আশঙ্কায় বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৮-২০ অক্টোবর** পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকায় তিন খ্রিষ্টান পরিবারের সদস্যদের মারধর ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। একজন ৪০ বছর বয়সী নারীকে প্রকাশ্যে শুদ্ধীকরণের নামে গোসল করানো হয় এবং পরিবারগুলোর সদস্যদের দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে আচার পালনে বাধ্য করা হয়।
- 📌 **হত্যাচেষ্টা, অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন, নারীর শ্লীলতাহানি ও ডাকাতি**সহ মামলা করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
- 📌 **ভুক্তভোগী নারী** বলেন, হামলাকারীরা তাঁর কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং তাঁকে তুলসী ও বেলপাতা খেতে বাধ্য করে। এরপর তাঁর গায়ে পানি ঢালে শুদ্ধীকরণের আচার পালন করে।
- 📌 **পুলিশ** বাড়ির বাইরে চারজন সদস্য মোতায়েন করেছে, কিন্তু ভুক্তভোগীরা হুমকির আশঙ্কায় বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
- 📌 **কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী** জানিয়েছেন, পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে, কিন্তু অভিযুক্তরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
📰 বিস্তারিত
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানা এলাকায় ১৮ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা তিন খ্রিষ্টান পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। একজন ৪০ বছর বয়সী নারীকে প্রকাশ্যে শুদ্ধীকরণের নামে গোসল করানো হয়। নারীর স্বামী ৫০ বছর বয়সী। তাঁরা বাড়িতে তামার গয়না তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। হামলাকারীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করার চাপ দিয়েছিল।
পুলিশে অভিযোগ করার পরও হামলাকারীরা পরদিন ১৯ অক্টোবর আবার ফিরে আসে। তারা তিন পরিবারের সদস্যদের দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে যায় এবং অঞ্জলি দিতে বাধ্য করে। নারী বলেন, ‘তাঁরা আমাদের পাশের গ্রামের দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিয়ে যায়। সেখানে অঞ্জলি দিতে বাধ্য করে। সবাই আমাদের দেখছিল। ফিরে এসে আমরা নিজেদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখি। বাইরে বের হওয়ার সাহস পাইনি।’
২০ অক্টোবর তিন পরিবারের পুরুষ সদস্যদের আবার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারী জানান, ‘তারা আমার স্বামী ও অন্য পরিবারগুলোর পুরুষ সদস্যদের ধরে নিয়ে যায়। তাঁরা বাড়ি ফিরে কাঁদছিলেন। তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনটি দিন ছিল ভয়াবহ। ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারিনি।’
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমরা তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। এরপর সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাহায্যে পুলিশকে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে আমাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়।’
"১৮ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা আমাদের বাড়িতে আসে। তারা আমাকে ও আমার স্বামীকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে মারধর করে। আমি মাটিতে পড়ে যাই। তারা আমার কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এরপর আমাকে তুলসীপাতা ও বেলপাতা খেতে বাধ্য করে। শুদ্ধীকরণের আচার হিসেবে আমার গায়ে পানি ঢালে। সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিল, কীভাবে আমার গায়ে পানি ঢালা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ৪০ বছর বয়সী খ্রিষ্টান নারী, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮-২০ অক্টোবর (ঘটনার তারিখ), ৪০ বছর (নারীর বয়স), ৫০ বছর (স্বামীর বয়স), ২০ হাজার রুপি (চুরি করা অর্থ), ১০০ নম্বরে (পুলিশের হেল্পলাইন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!