📌 চীনের মুরগির মাংসের উৎপাদন ও রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম দামের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ছে এবং ব্রাজিল, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৫ সালে মুরগির মাংস রপ্তানি ২৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালের দ্বিগুণ
বিশ্ববাজারে চীনের মুরগির মাংসের দামের প্রতিযোগিতা তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে। কম দামের কারণে ব্রাজিল, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে। চীনের প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান উইনটপ ফুডের কার্যালয়ে এখন বিদেশি ক্রেতাদের ভিড়। ঘানা, ইরাক, জর্ডান, রাশিয়া ও সেনেগালসহ ২০টিরও বেশি দেশ থেকে ক্রেতারা আসছেন চীনের মুরগির মাংস, নাগেট, মিটবল ও ডাম্পলিং কিনতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উইনটপ ফুডের মহাব্যবস্থাপক ডাং ইয়াংইয়াংের কাছে এখন বিদেশি ক্রেতাদের ভিড় — ঘানা, ইরাক, জর্ডান, রাশিয়া ও সেনেগালসহ ২০টিরও বেশি দেশ থেকে ক্রেতা আসছে মুরগির মাংস কিনতে।
- 📌 প্রতি টনে প্রায় এক হাজার ডলার কম দামে চীনা কোম্পানিটি মুরগির মাংস বিক্রি করছে, যা ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডের প্রতিযোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা।
- 📌 ২০২৫ সালে চীন মুরগির মাংস রপ্তানি করেছে ২৬০ কোটি ডলার, যা ২০২০ সালের প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়াও, দুগ্ধজাত পণ্যের রপ্তানি ৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস।
- 📌 চীনে মুরগির খামারগুলোর আকার বাড়ছে — একসময় ২০ হাজার মুরগি পালন করা হতো, এখন একই খামারে ১ লাখ ২০ হাজার মুরগি পালন করা হয়।
- 📌 চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মুরগির মাংসের উৎপাদনের হারে না বাড়ায় অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। সরকারি সহায়তা থেকে কৃষকদের মোট আয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ আসছে।
- 📌 ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীন থেকে হাঁসের মাংস আমদানির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, আর চীনের মটরশুঁটির আমদানিতে ৪১ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
চীনের মুরগির মাংসের উৎপাদন ও রপ্তানির দ্রুত বৃদ্ধি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। উইনটপ ফুডের মহাব্যবস্থাপক ডাং ইয়াংইয়াং বলেছেন, আগে বিদেশি ক্রেতারা চীনের মাংসের গুণমান নিয়ে সন্দেহ করতেন। কিন্তু দামের এই ব্যবধানের কারণে এখন তাঁদের চীন থেকে পণ্য কিনতে হচ্ছে। না হলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।
চীনের মুরগির মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন একটি প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে শূকরের মাংস ছিল চীনের মানুষের প্রধান প্রাণিজ আমিষের উৎস। কিন্তু খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসার সাথে সাথে মুরগির মাংসের চাহিদা বেড়েছে। উইনটপ ফুডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করছে। কোম্পানিটি বছরে ছয় কোটি মুরগি প্রক্রিয়াজাত করে, যার প্রায় অর্ধেক আয় আসে রপ্তানি থেকে।
চীনের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কৃষকদের মোট আয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ এসেছে সরকারি ভর্তুকি থেকে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা সেই হারে না বাড়ায় অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এই অতিরিক্ত উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে চীনা পণ্যের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে চীনের শিল্পনীতির কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
"আগে বিদেশি ক্রেতারা চীনের মাংসের গুণমান নিয়ে সন্দেহ করতেন। কিন্তু দামের এই ব্যবধানের কারণে এখন তাঁদের চীন থেকে পণ্য কিনতে হচ্ছে; নয়তো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডাং ইয়াংইয়াং (উইনটপ ফুডের মহাব্যবস্থাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬০ কোটি ডলার (২০২৫ সালের মুরগির মাংস রপ্তানি), ৬০ কোটি ডলার (দুগ্ধজাত পণ্যের রপ্তানি পূর্বাভাস), ১৩ শতাংশ (সরকারি সহায়তা থেকে কৃষকদের আয়), ১ লাখ ২০ হাজার (একটি খামারে মুরগির সংখ্যা), ২০টি (রপ্তানি করা দেশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!