📌 চীন ও উত্তর কোরিয়া ১২ বছরের অপেক্ষার পর ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ উদ্বোধন করেছে। সেতুটি ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নির্মিত। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং সেতু উদ্বোধনকে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন
১২ বছরের অপেক্ষার পর চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি চীনের দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত এবং দুই দেশের প্রধান স্থল বাণিজ্য রুটে পরিণত হবে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেতুটি চালু হওয়ায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন ও উত্তর কোরিয়া ১২ বছরের অপেক্ষার পর ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ উদ্বোধন করেছে, যা ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ
- 📌 সেতুটি ২০১৪ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ ও চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে কাজ স্থগিত হয়েছিল
- 📌 চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেছেন, সেতুটি ‘চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক’
- 📌 সেতুটি ১৯৩৭-৪৩ সালের জাপানি সাম্রাজ্যের ‘সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে
- 📌 গত বছর চীন-উত্তর কোরিয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়
- 📌 বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া সীমান্ত বাণিজ্যে ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি ঘটাবে, চীনের প্রভাব একচ্ছত্র না হওয়ার জন্য
- 📌 উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সেতু উদ্বোধনের পর চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক জোরদারে গতিরায়ে এসেছে
- 📌 গত মার্চে বেইজিং-পিয়ংইয়ং ফ্লাইট ও ট্রেন পুনরায় চালু হয় এবং জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন
📰 বিস্তারিত
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ উদ্বোধনের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগ শুরু হয়েছে। সেতুটি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দীর্ঘ। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেতুটির কাজ ২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল, কিন্তু উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের সড়ক ও কাস্টমস অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সেতু নির্মাণ কাজ স্থগিত হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এক নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।’ সেতুটি মূলত ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপানি সাম্রাজ্যের সময়ে নির্মিত ‘সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
গত বছর উত্তর কোরিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সীমান্ত বাণিজ্যে আকস্মিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাউথ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে জানান, বেইজিংয়ের পণ্য যেন নিজ দেশের বাজারে একচ্ছত্র প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়াও সতর্ক। তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।
দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে গত এক দশকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। ফলে পিয়ংইয়ংকে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে ও নিজস্ব প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে গতি এনেছে।
"সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এক নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।"
— চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন (দানদং) থেকে উত্তর কোরিয়া (সিনুইজু) পর্যন্ত সেতু
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর (অপেক্ষা), ৩ কিলোমিটার (সেতুর দৈর্ঘ্য), ২.৭ বিলিয়ন ডলার (বাণিজ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!