📌 চীন বর্তমানে ৪০০-এর বেশি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করছে। তাদের নৌবাহিনীতে তিনটি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে এবং চতুর্থটি নির্মাণাধীন। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তাইওয়ান পর্যন্ত তাদের নৌবহর নিয়মিত সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে
চীনের নৌবাহিনী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার জন্য ৪০০-এর বেশি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা দেশ হিসেবে চীন প্রতিবছর বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি করে। এখন সেই শিল্প অবকাঠামো ব্যবহার করে তারা দ্রুতগতিতে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের নৌবাহিনীতে বর্তমানে ৪০০-এর বেশি যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি
- 📌 চীনের হাতে বর্তমানে তিনটি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে এবং চতুর্থটি নির্মাণাধীন, যা সম্ভবত পারমাণবিক শক্তিচালিত হবে
- 📌 প্রতিদিন চীনের নৌবাহিনীর প্রায় ১০০টি জাহাজ এশিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্য ও নৌপরিবহন পথে চলাচল করে
- 📌 দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তাইওয়ানের আশপাশের পানিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত চীনের নৌবহর প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে
- 📌 চীনের লক্ষ্য হলো উপকূলবর্তী পানিসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ কঠিন করা
- 📌 প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, কোনো দেশের উত্থান-পতনের সাথে সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ অবিচ্ছেদ্য
📰 বিস্তারিত
১৯৯৮ সালে ম্যাকাওয়ের একটি জুয়া কেন্দ্রিক বিনোদন প্রতিষ্ঠান একটি পরিত্যক্ত সোভিয়েত বিমানবাহী রণতরি কিনেছিল। চীনা মালিকদের দাবি ছিল, তারা জাহাজটিকে ভাসমান ক্যাসিনোতে রূপান্তর করবে। কিন্তু আসলে এটি ছিল একটি নিছক চাতুরি। চীনের নৌবাহিনী তখনো বিমানবাহী রণতরি পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। পরিত্যক্ত জাহাজটিকে কার্যকর রণতরিতে রূপান্তর করতে ১৫ বছর সময় লেগেছিল। এ সময় তারা জাহাজের ভেতরের সাজ-সরঞ্জাম খুলে ফেলে এবং কীভাবে যুদ্ধবিমান উড়ানো যায়, সেই কৌশল আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়।
চীনের এই উদ্যোগের শুরুতে অনেক সামরিক বিশ্লেষক মশকরা করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই হাসি-মশকরার দিন শেষ। চীনের নৌবাহিনী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনীগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাদের নৌবহরে বর্তমানে তিনটি বিমানবাহী রণতরি রয়েছে এবং চতুর্থটির নির্মাণকাজ চলছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন রণতরিটি হবে পারমাণবিক শক্তিচালিত।
চীনের নৌবাহিনীতে বর্তমানে ৪০০-এর বেশি যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাহাজের সংখ্যার হিসাবে চীনের নৌবহর এখন মার্কিন নৌবাহিনীর চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বড়। প্রতিদিন চীনের নৌবাহিনীর প্রায় ১০০টি জাহাজ এশিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্য ও নৌপরিবহন পথগুলোতে চলাচল করছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে জাপান ও তাইওয়ানের আশপাশের পানিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের তৎপরতা। এসব জাহাজ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়মিত সামরিক মহড়া চালাচ্ছে।
চীনের বড় ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজগুলো এমন সব সাগরেও উপস্থিত হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নৌবাহিনীর আধিপত্য ছিল। এডেন উপসাগরেও নিয়মিত মোতায়েন করা হচ্ছে চীনা যুদ্ধজাহাজ। তাইওয়ানের আশপাশের পানিসীমায় চীনা নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন একদল নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, যেকোনো সময় সেখানে চীনের প্রায় ছয়টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করে। সামরিক মহড়ার সময় এই সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি এর প্রায় তিন গুণ।
"কোনো দেশের উত্থান-পতনের সাথে সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। চীনকে একটি ‘সমুদ্রশক্তিতে পরিণত’ হতে হবে।"
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই বিশ্বাসের পেছনে রয়েছে চীনের ইতিহাস। তিনি উল্লেখ করেছেন, পঞ্চদশ শতকে অ্যাডমিরাল ঝেং হের সমুদ্র অভিযান এবং তাঁর বিশাল নৌবহরের কথা। সেই নৌবহর হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত গিয়ে চীনা পণ্য পৌঁছে দিয়েছিল। পরে চীন সমুদ্রাভিযান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটে। উনিশ শতকের আফিম যুদ্ধের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শি। ওই যুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিগুলো সমুদ্রপথে এসে চীনে হামলা চালিয়েছিল। চীনের বাণিজ্যিক সমুদ্রস্বার্থের সাথে সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে একসূত্রে বেঁধেছেন শি। তাঁর সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তব রূপ নিচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান, এডেন উপসাগর, এশিয়ার বাণিজ্য পথ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, চীনা নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০০+ যুদ্ধজাহাজ, ৩৫% (যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি), ১০০টি জাহাজ দৈনিক, ১৫ বছর (বিমানবাহী রণতরি রূপান্তর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!