📌 চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার কারণে এই সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে এই সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রদূত।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের কারণে এই সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আজ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় হাতে হাত রেখে, আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে’ শীর্ষক বিবৃতিতে তিনি এই কথা বলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রদূত।
- 📌 চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সমর্থন করবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সহযোগিতা করবে বলে ইয়াও ওয়েনের দাবি।
- 📌 বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনের পর ইয়াও ওয়েন দায়িত্ব ছাড়ছেন এবং এই সময়টিকে তার কূটনৈতিক জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- 📌 রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণদের আশাবাদ ও দৃঢ়তা তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।
📰 বিস্তারিত
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের কারণে এই সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘এই বন্ধুত্ব দুই দেশ ও তাদের জনগণের মৌলিক স্বার্থে কাজ করে।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বেইজিং বাংলাদেশের নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন করে যাচ্ছে। একইসাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে, বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আরও বড় ভূমিকা পালনে সহযোগিতা করবে।’
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫১তম এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা যায়। এ সময় দুই দেশের নেতারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করেছেন।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘গত তিন বছরে আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই জাতির নেয়া ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংস্কার ও উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জনগণের অসাধারণ দৃঢ়তা ও জাতীয় মর্যাদাবোধের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক নানা সময়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে, তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশের অংশীদারিত্ব তার প্রাণবন্ততা ধরে রেখেছে এবং সম্পর্ক অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন। তিনি বলেন, ‘এই সময়টি তার কূটনৈতিক জীবনের অত্যন্ত অর্থবহ একটি অধ্যায়। এই ১ হাজার ৩০০ দিনেরও বেশি সময় আমার কূটনৈতিক জীবনের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়ার এই সময়ে আমার হৃদয় গভীর টান ও বিচ্ছেদ-বেদনায় ভারাক্রান্ত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সফরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘তিনি ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে হেঁটেছেন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে সফর করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের আশাবাদ ও দৃঢ়তা তার ওপর বিশেষভাবে গভীর ছাপ ফেলেছে। শহরের নির্মাণস্থলে কাজ করা কিংবা গ্রামীণ এলাকায় বসবাস — যেখানেই থাকুক না কেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন ধরে রেখেছে বাংলাদেশের তরুণরা। তিনি বলেন, ‘তরুণরাই একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং দেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি সম্পূর্ণ আশাবাদী।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশে অবকাঠামো ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত পরিবর্তনও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এর মধ্যে উড়ালসড়ক নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, ঢাকার নগরদৃশ্যের পরিবর্তন এবং মোবাইলভিত্তিক লেনদেনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সফরের সময় মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক হাসি চীনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের বন্ধুত্বের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।’
"দুই দেশের সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে যেতে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য সুফল ও অধিকতর সুবিধা বয়ে আনতে পেরেছে, যা দেখতে পেয়ে আমি আনন্দিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াও ওয়েন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৭তম বার্ষিকী, ৫১তম বার্ষিকী, ১০ম বার্ষিকী, ১ হাজার ৩০০ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!