📌 চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা ৬০ থেকে ১০০ বছর বয়সী হয়ে পড়েছেন। ব্রিটেন-মরিশাসের চুক্তি বিলম্বে তাদের স্বদেশে ফিরে আসার আশা নষ্ট হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতায় চুক্তি কার্যকর হয়নি
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা তাদের প্রিয় দ্বীপপুঞ্জে ফিরে আসার আশা নিয়ে বয়স কাটাচ্ছেন। কিন্তু ব্রিটেন-মরিশাসের চুক্তি বিলম্বে তাদের স্বদেশে ফিরে আসার সুযোগ নষ্ট হতে পারে। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপে মরিশাস থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এখন ৬০ থেকে ১০০ বছর বয়সী বয়স্ক চাগোসীয়রা তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাচ্ছেন বাসস্থানহীন হয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা তাদের শেষ দিনগুলো কাটাচ্ছেন বাসস্থানহীন হয়ে — ৬০ থেকে ১০০ বছর বয়সী বয়স্কদের মধ্যে অনেকেই মারা যাচ্ছেন।
- 📌 ব্রিটেন-মরিশাসের ২০২৫ সালের চুক্তি বিলম্বে কার্যকর হয়নি — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতায় চুক্তি বাস্তবায়ন বন্ধ রয়েছে।
- 📌 ব্রিটেনের পার্লামেন্টে চুক্তি বাস্তবায়নের আইন পাস হয়নি — ২০২৪-২৬ সালের পার্লামেন্ট সেশন শেষ হওয়ার আগেই আইনটি বিলোপ পেয়েছে।
- 📌 ট্রাম্প চুক্তিকে "অজ্ঞতার কাজ" বলে সমালোচনা করেছেন — তিনি বলেছেন, চুক্তি ডিগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
- 📌 চাগোসীয় সংস্কৃতি ধ্বংসের পথে — বিতাড়িত চাগোসীয়রা তাদের ভাষা ও রন্ধনশৈলী হারাচ্ছেন।
- 📌 আন্তর্জাতিক আদালতের ২০১৯ সালের রায় ও ২০২৫ সালের চুক্তি চাগোসীয়দের পক্ষে — কিন্তু বাস্তবায়নের বিলম্ব তাদের আশাকে নষ্ট করছে।
📰 বিস্তারিত
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের মধ্যে অন্যতম নেতা ও চাগোস রিফিউজি গ্রুপের সদস্য অলিভিয়ের ব্যাঙ্কুল্ট বলেছেন, “একটি কবরস্থানে আমরা চাগোসের মাটি ছড়িয়ে দিয়েছিলাম একজন বয়স্ক চাগোসীয়ের কবরে — তার স্বপ্ন ছিল তার শেষ নিঃশ্বাস তার স্বদেশে নিঃশ্বাস ফেলতে।” বয়স্ক চাগোসীয়রা তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাচ্ছেন বাসস্থানহীন হয়ে। ব্রিটেন-মরিশাসের ২০২৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী, চাগোসীয়রা ডিগো গার্সিয়া ছাড়া অন্যান্য দ্বীপে ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতায় চুক্তি কার্যকর হয়নি।
ব্যাঙ্কুল্ট বলেছেন, “ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ আমাদের চাগোস চুক্তিতে আঘাত হানে না। ২০১৯ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের রায়, ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক আইন আদালতের রায় এবং ২০২৫ সালের ব্রিটেন-মরিশাস চুক্তি সবই চাগোসীয়দের অধিকারকে সমর্থন করে। আন্তর্জাতিক আইন আমাদের পক্ষে রয়েছে।”
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপে মরিশাস থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এরপর ব্রিটেন ডিগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে ব্রিটেন প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৭০০ চাগোসীয়কে তাদের দ্বীপ থেকে বিতাড়িত করে। তাদের মধ্যে অনেককে মরিশাস ও সেশেলসে পুনর্বাসিত করা হয়, অন্যদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটেন চাগোস দ্বীপে ফিরে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ব্রিটেনের পার্লামেন্টে জানানো হয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নের আইন ২০২৪-২৬ সালের পার্লামেন্ট সেশনে পাস হয়নি। সেশন শেষ হওয়ার আগেই আইনটি বিলোপ পেয়েছে। জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প চুক্তিকে "অজ্ঞতার কাজ" বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, চুক্তি ডিগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, ব্রিটেন মরিশাস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ডিগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নাভিন রামগোলাম লন্ডনে যান এবং ব্রিটিশ ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জোনাথন পাওয়ারের সাথে আলোচনা করেন।
চাগোসীয় সংস্কৃতি ধ্বংসের পথে — বিতাড়িত চাগোসীয়রা তাদের ভাষা ও রন্ধনশৈলী হারাচ্ছেন। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপোলজি বিভাগের পিএইচডি গবেষক ক্রিসিল ওয়ং-হাং-সান বলেছেন, “আমার গবেষণায় দেখা গেছে, চাগোসীয়দের মধ্যে অনেকেই তাদের ভাষা ও রন্ধনশৈলী হারাচ্ছেন। তাদের পূর্বপুরুষদের দ্বীপে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।”
"আমরা চাগোসীয়দের অধিকারকে সমর্থন করে আন্তর্জাতিক আইন আমাদের পক্ষে রয়েছে।" — অলিভিয়ের ব্যাঙ্কুল্ট, চাগোস রিফিউজি গ্রুপের নেতা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাগোস দ্বীপপুঞ্জ (ডিগো গার্সিয়া, মরিশাস, সেশেলস, যুক্তরাজ্য)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অলিভিয়ের ব্যাঙ্কুল্ট, ক্রিসিল ওয়ং-হাং-সান, ডোনাল্ড ট্রাম্প, অ্যান্ডি বার্নহাম, নাভিন রামগোলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১,৪০০-১,৭০০ (বিতাড়িত চাগোসীয়), ৯৯ বছর (ডিগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি), ৬০-১০০ বছর (বয়স্ক চাগোসীয়দের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!