📌 যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। পাল্টা শুল্ক আরোপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, দেশের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত। দেশটির জনগণও সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানাচ্ছে বিভিন্ন জরিপে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রেখে তিনি পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। কানাডার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন কার্নি
- 📌 কানাডার প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্র 'অতিরিক্ত দাবি' করেছে কিন্তু 'প্রতিদানে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে'
- 📌 কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়
- 📌 মার্কিন শুল্কের কারণে কানাডার পর্যটন খাতে তিন দশমিক তিন বিলিয়ন কানাডীয় ডলার রাজস্ব কমেছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধে কানাডার জনগণের মধ্যে সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি থাকার পরও শেষ মুহূর্তে সরে আসা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি করেছে কিন্তু প্রতিদানে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে। কার্নি বলেন, "আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা কানাডার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছি।" তিনি আরও জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে শর্ত বদলে 'ক্ষমতার খেলা' খেলার অভিযোগ তোলেন তিনি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আপনার ওপর হামলা হলে তবেই আপনি যুদ্ধে আছেন- আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "কানাডা শক্তিশালী, কানাডা প্রস্তুত, কানাডা ঐক্যবদ্ধ।" তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, অর্থনৈতিক ক্ষতি স্বীকার করেও দেশের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন।
কানাডার অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। আবার বেশ কয়েকটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের জন্য কানাডা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মিশিগান, কেনটাকি, ইন্ডিয়ানা ও ওহাইও রয়েছে। মার্কিন শুল্কের কারণে দেশটির ব্যবসাবাণিজ্য আরও চাপের মুখে পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাণিজ্য বিরোধের কারণে কানাডার পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে শুরু করেছেন কানাডীয়রা। এর ফলে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে প্রায় তিন দশমিক তিন বিলিয়ন কানাডীয় ডলার রাজস্ব কমেছে। কানাডার অধিকাংশ প্রদেশের দোকান থেকে মার্কিন মদ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও ওই শিল্পে বড় ধরনের আঘাত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইন রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৭৮ শতাংশ কমেছে, যার ফলে রপ্তানি আয় প্রায় ৩৫৭ মিলিয়ন ডলার কমেছে।
"আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা কানাডার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছি।"
"আপনার ওপর হামলা হলে তবেই আপনি যুদ্ধে আছেন- আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।"
"কানাডা শক্তিশালী, কানাডা প্রস্তুত, কানাডা ঐক্যবদ্ধ"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ শতাংশ, ৩৬ শতাংশ, ৫৬ শতাংশ, ৭৮ শতাংশ, ৩৫৭ মিলিয়ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!