📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কানাডার সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠকে কানাডা বাংলাদেশের কৃষি, নার্সিং প্রশিক্ষণ ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে কানাডার সহযোগিতার আহ্বান জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রোহিঙ্গা সংকট**: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনই স্থায়ী সমাধান। কানাডার প্রতিমন্ত্রী এই বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
- 📌 **জ্বালানি সহযোগিতা**: কানাডা বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি খাতে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
- 📌 **নার্সিং প্রশিক্ষণ**: কানাডা বাংলাদেশে নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও দক্ষ নার্স তৈরিতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। বর্তমানে এ খাতে তাদের কার্যক্রম রয়েছে।
- 📌 **কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা**: কানাডা বাংলাদেশের ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন ও সরবরাহে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারে।
- 📌 **জলবায়ু অর্থায়ন**: কানাডা আগামী পাঁচ বছরে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার জলবায়ু অর্থায়নে বরাদ্দ করবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা।
- 📌 **বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রশংসা**: কানাডার প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের উদ্যোগ ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন।
📰 বিস্তারিত
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কানাডার প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এছাড়া, বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোয় সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে কানাডা আগ্রহী বলে জানানো হয়। বর্তমানে এ খাতে কানাডার কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্র করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে তাঁর দেশ ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার বরাদ্দ করবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডার প্রতিনিধিদল।
"রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই স্থায়ী সমাধান। এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, সচিবালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রণদীপ সরাইয়ে (কানাডার প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ লাখ (রোহিঙ্গা), ২৮ লাখ ৫০ হাজার (দারিদ্র্য বিমোচন), ২৫ কোটি (বৃক্ষরোপণ), ১ হাজার ৩০০ কোটি (জলবায়ু অর্থায়ন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!