📌 যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে রেকর্ড উচ্চতার ঢেউ ও জোয়ারের কারণে একের পর এক বাড়িঘর সাগরে ধসে পড়ছে। শন কার্টিসের মতো বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে বেরিয়ে পড়তে বাধ্য হন। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এল নিনোর প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে ভয়াবহ ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ও সৈকত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। রেকর্ড উচ্চতার জোয়ার ও শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। গত ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে তিনটার দিকে লং বিচ শহরে বসবাসকারী শন কার্টিস নিজ চোখে দেখেন তার বাড়ির সামনের হাঁটার পথ ও ২৫ ফুট চওড়া বালুর সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়া। চারদিক থেকে নোনা পানি ঢুকতে শুরু করলে বাড়িটি কাত হয়ে সাগরের দিকে হেলে পড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত লং বিচ উপদ্বীপে এক ডজনের বেশি বাড়ি সাগরে ধসে পড়েছে।
- 📌 গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র্যাচেলের অবশিষ্ট প্রভাব থেকে উপকূলে ১৭ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে।
- 📌 ১৩টি বাড়ি থাকা আটটি স্থাপনা প্রবেশ অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে।
- 📌 শন কার্টিস জানান, ঢেউয়ের পানি তার বাড়ির দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল।
- 📌 বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এল নিনোর প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
লং বিচের বাসিন্দা শন কার্টিসের বাড়ি ছিল দুই তলাবিশিষ্ট সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন। তিনি জানান, ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন দরজার কাঠামো ও জানালা বেঁকে গেছে। বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ার পর পানি ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত উঠে যায়। আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ বেয়ে পানি পড়তে দেখেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে কার্টিস ও তার সহবাসীকে জীবন বাঁচাতে দ্রুত বেরিয়ে যেতে হয়েছিল।
গত ৯ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে এক ডজনের বেশি বাড়ি সাগরে ধসে পড়েছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় র্যাচেলের অবশিষ্ট প্রভাবের কারণে উপকূলে প্রায় ১৭ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ঝুঁকির কারণে ১৩টি বাড়ি থাকা আটটি স্থাপনায় প্রবেশ অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে। উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটার পথ ভেঙে পড়েছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেগুনা বিচ এলাকায় সড়কের কয়েকটি অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় একটি অংশ এখনও বন্ধ রয়েছে। নিউপোর্ট বিচের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের উপকূলীয় বন্যা গবেষণাগারের গবেষক টিমু গ্যালিয়েন বলেছেন, বর্তমান বিপর্যয়ের তুলনায় ভবিষ্যতে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যা উপকূলীয় বন্যা ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এল নিনোর প্রভাবের কারণে উপকূলে আরও শক্তিশালী ঢেউ ও জোয়ারের আশঙ্কা রয়েছে।
"ঢেউ ও জোয়ারের উচ্চতা সামান্য কমলেও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা চলছে। আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং আরও খারাপ হতে পারে।"
— জলবায়ুবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েইন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লং বিচ, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শন কার্টিস, টিমু গ্যালিয়েন, ড্যানিয়েল সোয়েইন, রেক্স রিচার্ডসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ অক্টোবর, ৩ টা, ২৫ ফুট, ১৭ ফুট, ১৩টি বাড়ি, ১১ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!