📌 দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের একটি খালে আটকে পড়া তিন মিটার লম্বা বিশাল হাঙরকে দেখতে গত ১০ দিনে প্রায় ছয় লাখ মানুষ ভিড় করেছে। হাঙরটিকে সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু এখনো সফল হয়নি
দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের একটি খালে আটকে পড়া বিশাল হাঙরটি মানুষের মাঝে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। প্রায় তিন মিটার লম্বা এই হাঙরটি ‘বুকাং-ই’ নামে পরিচিত। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে খালে আটকে থাকা এই হাঙরকে দেখতে গত ১০ দিনে প্রায় ছয় লাখ মানুষ এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরের একটি খালে আটকে পড়া তিন মিটার লম্বা হাঙরকে ‘বুকাং-ই’ নামে ডাকা হয়েছে
- 📌 ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে খালে আটকে থাকা এই হাঙরকে দেখতে গত ১০ দিনে প্রায় ছয় লাখ সাত হাজার মানুষ ভিড় করেছে
- 📌 বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জোর করে হাঙরটিকে বের করার চেষ্টা করলে সেটি আহত হতে পারে
- 📌 বুসানের মেয়র চুন জে-সু হাঙরটিকে ‘সম্মানসূচক প্রচারদূত’ ঘোষণা করেছেন
- 📌 সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় হাঙরটি আবার খালে ফিরে যায়
- 📌 বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এ বছর পূর্ব উপকূলে ৪৬টি বড় হাঙর দেখা গেছে, যা গত বছরের তুলনায় চার গুণ বেশি
📰 বিস্তারিত
১৮ সেপ্টেম্বর বুসানের একটি জলাধারের পাশে হাঙরটি প্রথম দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি ব্রোঞ্জ হুইলার প্রজাতির হাঙর। সমুদ্র থেকে শিকারের পেছনে ছুটতে ছুটতে এটি খালের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। পরে আর সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজে পায়নি। উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই হাঙরটিকে খাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন, জোর করে হাঙরটিকে বের করার চেষ্টা করলে সেটি আহত হতে পারে বা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
হাঙরটিকে দেখতে মানুষের ভিড় শুরু হয়। যে পার্কে সাধারণ ছুটির দিনে প্রায় দুই হাজার মানুষ আসত, সেখানে ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় লাখ সাত হাজার। কেউ হাঙরটির ছবি তুলেছেন, কেউ ভিডিও করেছেন, কেউ আবার দূর থেকে শুধু এর পানিতে সাঁতার কাটা দেখেছেন। হাঙরটির প্রতি মানুষের মায়াও জন্মে গেছে। ৬২ বছর বয়সী কিম জুং-সুক নামের এক নারী মঙ্গলবার হাঙরটিকে বিদায় জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে এখানে দেখতে দেখতে ওর প্রতি মায়া হয়ে গেছে। তাই একটু মন খারাপ লাগছে।’
বুসানের মেয়র চুন জে-সু হাঙরটিকে ‘সম্মানসূচক প্রচারদূত’ ঘোষণা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে করা এক জরিপে ৯১ শতাংশ মানুষ এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে। হাঙরটিকে ‘শাফ্লুয়েন্সার’ উপাধি দেওয়া হয়েছে। বুসানের মাসকট বুগি হাঙরটির হয়ে এই সম্মাননা গ্রহণ করবে। তবে এত মানুষের আগ্রহের মধ্যে আসল বিষয় হলো হাঙরটির নিরাপদে সমুদ্রে ফিরে যাওয়া। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হাঙরটি আপাতত স্থিতিশীল আছে, কিন্তু খালের সরু জায়গায় এর চলাফেরা ও খাবার খোঁজার সুযোগ কমে গেছে। সেখানে বেশি দিন আটকে থাকলে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
"ওকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে," বলেছেন মেয়র চুন জে-সু
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বুসান শহর, দক্ষিণ কোরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কিম জুং-সুক, চুন জে-সু, বিজ্ঞানীরা, উপকূলরক্ষী সদস্যরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখ ৭ হাজার (দর্শনার্থী), ৩ মিটার (হাঙরের দৈর্ঘ্য), ১৮ সেপ্টেম্বর (প্রথম দেখা), ৯১% (সম্মাননা সমর্থন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!