📌 ব্রিটেনের গ্রিন পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে জিওনিজমকে 'এথনোন্যাশনালিস্ট রাজনৈতিক প্রকল্প' হিসেবে চিহ্নিত করে রাসিজম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১০২২ ভোটে এই প্রস্তাব পাস হয়, যা জিওনিজমের উপনিবেশবাদী ও জনগণকে বিতাড়িতকরণের ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
ব্রিটেনের গ্রিন পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে জিওনিজমকে রাসিজম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সম্মেলনে অনুমোদিত প্রস্তাবে জিওনিজমকে "এথনোন্যাশনালিস্ট রাজনৈতিক প্রকল্প" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই প্রস্তাব ১০২২ ভোটে পাস হয়, যা ৮১৩ ভোটের বিরোধিতা সত্ত্বেও জোরালোভাবে অনুমোদিত হয়। প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন পার্টির কিছু এমপি এবং সাবেক নেতা ক্যারোলাইন লুকাস।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাইটন সম্মেলনে গ্রিন পার্টি জিওনিজমকে "এথনোন্যাশনালিস্ট রাজনৈতিক প্রকল্প" হিসেবে চিহ্নিত করে রাসিজম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়
- 📌 প্রস্তাব ১০২২ ভোটে পাস হয়, ৮১৩ ভোটের বিরোধিতা সত্ত্বেও
- 📌 জিওনিজমকে উপনিবেশবাদী ও জনগণকে বিতাড়িতকরণের প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়
- 📌 জিওনিজমের প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জেল ও ভ্লাদিমির জাবোটিনস্কি জিওনিজমকে উপনিবেশবাদী প্রকল্প হিসেবে স্বীকার করেছেন
- 📌 ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভা জিওনিজমকে রাসিজম হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যা ১৯৯১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে প্রত্যাহার করা হয়
📰 বিস্তারিত
জিওনিজমকে রাসিজম হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ মেইনস্ট্রিম মিডিয়া ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা গ্রিন পার্টিকে অ্যান্টি-সেমিটিক হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এই পদক্ষেপ জুডিশিয়াল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তবে এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে জিওনিজম একটি উপনিবেশবাদী ও জনগণকে বিতাড়িতকরণের প্রকল্প। জিওনিজমের মূল ধারণা হলো বিশ্বের যে কোনো জায়গার জুডিশিয়াল জনগোষ্ঠীকে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনে একটি দেশ গঠনের অধিকার রয়েছে, যা স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারকে উপেক্ষা করে।
জিওনিজমের প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জেলের একটি বিখ্যাত পত্রে দেখা যায়, তিনি ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী নেতা সিসিল রোডসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একটি প্রস্তাবনা লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, "এটি আফ্রিকার বিষয় নয়, বরং এশিয়ার একটি অংশ। তাহলে কেন আমি আপনাকে আহ্বান করছি, কারণ এটি একটি উপনিবেশবাদী বিষয়।" জিওনিজমের প্রতিষ্ঠাতা সংস্থাগুলোর নামেও এই উপনিবেশবাদী পরিচয় স্পষ্ট ছিল, যেমন: জুডিশিয়াল কলোনিয়াল ট্রাস্ট, প্যালেস্টাইন জুডিশিয়াল কলোনাইজেশন অ্যাসোসিয়েশন এবং জুডিশিয়াল এজেন্সির কলোনাইজেশন ডিপার্টমেন্ট।
জিওনিজমের এই প্রকৃতি বিশ্বের অন্যান্য উপনিবেশবাদী আন্দোলনের সাথে মিলে যায়, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা হয় এবং তাদের অধিকার উপেক্ষা করা হয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় জিওনিজমকে রাসিজম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ৭২ ভোটে পাস হয়েছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে ১৯৯১ সালে এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়।
"জিওনিস্ট উপনিবেশীকরণ ... স্থানীয় জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হতে হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাইটন, ব্রিটেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গ্রিন পার্টি নেতা, ক্যারোলাইন লুকাস, থিওডোর হার্জেল, ভ্লাদিমির জাবোটিনস্কি, সিসিল রোডস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২২ ভোট (পাস), ৮১৩ ভোট (বিরোধিতা), ৭২ ভোট (১৯৭৫ সালে জাতিসংঘে পাস), ৩৫ ভোট (বিরোধিতা), ৩২ ভোট (অবস্থান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!