📌 ভারতে ব্রিটিশ অভিজাত স্কুলগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। চণ্ডীগড়ে মেয়েদের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস চালু করেছে ৪৭৩ বছরের পুরোনো বেডফোর্ড স্কুল। ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি ও নব্য ধনীদের চাহিদা পূরণে এই স্কুলগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষাকাঠামো নিয়ে আসছে
ভারতে ব্রিটিশ অভিজাত স্কুলগুলোর সম্প্রসারণের গতি বাড়ছে। উদীয়মান ধনীদের সন্তানদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে নতুন ক্যাম্পাস চালু করছে যুক্তরাজ্যের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে মেয়েদের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস চালু করেছে ৪৭৩ বছরের পুরোনো বেডফোর্ড স্কুল। এই স্কুলের মূল ক্যাম্পাস যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারে অবস্থিত, যেখানে গথিক স্থাপত্য শৈলীর ভবনগুলো রয়েছে। তবে ভারতের ক্যাম্পাসটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক, যেখানে বিশেষভাবে নির্মিত ভবনগুলো ব্রিটিশ ঐতিহ্যের ছাপ ধরে রেখেছে — বিশেষত লাল ইটের নজরকাড়া ঘড়ির টাওয়ারের মাধ্যমে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **চণ্ডীগড়ে মেয়েদের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস চালু করেছে বেডফোর্ড স্কুল** — ৪৭৩ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
- 📌 **ভারতে ৬টি ব্রিটিশ অভিজাত স্কুলের ক্যাম্পাস চালু হয়েছে** — এর মধ্যে তিনটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
- 📌 **চীনের বাজার কঠিন হওয়া ও যুক্তরাজ্যে স্কুল ফি বৃদ্ধির কারণে ভারতে সম্প্রসারণ** — ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ব্রিটিশ স্কুলে ভ্যাট আরোপের প্রেক্ষাপটে।
- 📌 **বেঙ্গালুরুর ‘সিলিকন ভ্যালি’তে হ্যারো স্কুলের ক্যাম্পাস** — ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ছিলেন এই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী।
- 📌 **ভারতের নতুন ধনী পরিবারগুলোর সন্তানদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা চাহিদা বৃদ্ধি** — স্কুলগুলো ‘শিশুর চরিত্র গঠন’ ও ‘সামগ্রিক বিকাশ’কে গুরুত্ব দিচ্ছে।
- 📌 **৬০% কর্মী আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগ** — হ্যারো স্কুলের মতো স্কুলগুলো ভারতের ক্যাম্পাসে নিজস্ব ঐতিহ্য ও রীতিনীতির সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি মিশিয়ে চলেছে।
📰 বিস্তারিত
ভারতে ব্রিটিশ অভিজাত স্কুলগুলোর সম্প্রসারণের পেছনে প্রধান কারণ হলো ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উদীয়মান ধনীদের সংখ্যা বৃদ্ধি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম শুরু করেছে অন্তত ছয়টি ব্রিটিশ অভিজাত স্কুল। এর মধ্যে বেডফোর্ড স্কুলের মোহালি ক্যাম্পাস সর্বশেষ সংযোজন। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চীনে বাজার পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠা এবং যুক্তরাজ্যে বেসরকারি স্কুলের বেতনে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভ্যাট আরোপের কারণে ভারতে এসব স্কুলের সম্প্রসারণ ঘটছে।
বেঙ্গালুরুর ‘সিলিকন ভ্যালি’তে হ্যারো স্কুলের ক্যাম্পাস যাত্রা শুরু করেছে। এই শহরটি ভারতের প্রযুক্তি খাতের কেন্দ্র। হ্যারো স্কুলের প্রধান ক্যারোলিন পাসকো বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম অনেক পরিবারের জন্য বড় আকর্ষণ।’ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ছিলেন হ্যারো স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। এছাড়া মধ্য ভারতের ভোপালে ক্যাম্পাস করেছে শ্রুজবেরি স্কুল, পশ্চিম ভারতের পুনে শহরে ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে ওয়েলিংটন কলেজ। পুনেকে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হয়।
ভারতের অনেক স্কুলের মতো এখানে ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নেই। হরসিমরন সিং কোচর তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে পরনীতকে বেডফোর্ড স্কুলের মোহালি ক্যাম্পাসে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্কুলটির শিশুর চরিত্র গঠন, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আমাকে আকৃষ্ট করেছে। সব শিশুর সঙ্গে একই রকম আচরণ করা হয় — মন্ত্রী বা আমলাদের সন্তানদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পায় না।’
ভারতে সচ্ছল পরিবারগুলোর পাশাপাশি অনাবাসী ভারতীয়রাও এসব স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক। যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে চান। হ্যারো স্কুলের ৬০ শতাংশ কর্মী আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া হয়েছে। স্কুলটিতে শিক্ষকদের ‘বিকস’ নামে ডাকা হয়। শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী হ্যারো টুপি ও পোশাক পরে এবং ‘দ্য লং ডাকার’ নামের আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। স্কুলটিতে ‘হাউস’ পদ্ধতি রয়েছে, যা ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
"আমাদের আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম অনেক পরিবারের জন্য বড় আকর্ষণ।" — ক্যারোলিন পাসকো, হ্যারো স্কুলের প্রধান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চণ্ডীগড় (পাঞ্জাব), বেঙ্গালুরু (সিলিকন ভ্যালি), ভোপাল, পুনে, মোহালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যারোলিন পাসকো (হ্যারো স্কুলের প্রধান), হরসিমরন সিং কোচর, জওহরলাল নেহরু (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭৩ বছর (বেডফোর্ড স্কুলের বয়স), ৬টি স্কুলের ক্যাম্পাস, ৬০% (হ্যারো স্কুলের আন্তর্জাতিক কর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!