📌 ব্রিটেনে খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের পেছনে ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি জোরদার মনোভাব। থিওসের জরিপে দেখা যায়, খ্রিষ্টান পরিচয় দাবি করলেও গির্জায় যাওয়া কম, কিন্তু অভিবাসন ও ইসলামের বিরুদ্ধে প্রবল বিরূপতা
ব্রিটেনে খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের পেছনে ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি জোরদার মনোভাব। যুক্তরাজ্যের থিংকট্যাংক থিওসের নতুন জরিপে উঠে এসেছে, ব্রিটেনের খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদীরা ধর্মীয় অনুশীলন থেকে দূরে থাকলেও দেশের খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্য রক্ষায় জোর দিচ্ছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১১ শতাংশের মনোভাব খ্রিষ্টীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সর্বাধিক মিল রেখেছে, যাদের গবেষকরা ‘পরিচয়কেন্দ্রিক সমন্বয়বাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটেনে খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল থাকা গোষ্ঠীর ৮১ শতাংশ নিজেদের খ্রিষ্টান বলে পরিচয় দিয়েছেন, কিন্তু মাত্র ১৩ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে গির্জায় যান (সাধারণ গড় ১১ শতাংশ)।
- 📌 এই গোষ্ঠীর ৯০ শতাংশ মনে করেন, ব্রিটেনের খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মাত্র ১৯ শতাংশ আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাগত জানানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
- 📌 ধর্মীয় অনুশীলনে সক্রিয় ‘বিশ্বাসকেন্দ্রিক সমন্বয়বাদী’ গোষ্ঠীর ৬২ শতাংশ বাইবেলের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু তাদেরও মাত্র ১৮ শতাংশ খ্রিষ্টান হওয়ার জন্য ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন।
- 📌 জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৫ শতাংশ বলেছেন, এলাকার গির্জা বন্ধ করে মসজিদ করা হলে তারা অসন্তুষ্ট হবে,其中 ৩৭ শতাংশ খুবই অসন্তুষ্ট হবে।
- 📌 ৩৭ শতাংশ ব্রিটিশ ‘বৃহৎ প্রতিস্থাপন’ ষড়যন্ত্রতত্ত্বের সঙ্গে একমত, যেখানে দাবি করা হয়, মুসলিম-প্রধান দেশ থেকে অভিবাসীদের দিয়ে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাজ্যের থিংকট্যাংক থিওসের নতুন জরিপে ব্রিটেনের খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন আলো পড়েছে। জরিপে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ১ হাজার ৭৬৫ জন ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর জরিপ চালানো হয়। গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের মনোভাবের ভিত্তিতে পাঁচটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ‘পরিচয়কেন্দ্রিক সমন্বয়বাদী’ গোষ্ঠীটি খ্রিষ্টীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সর্বাধিক মিল রেখেছে, যদিও তাদের ধর্মীয় অনুশীলন খুব কম। এই গোষ্ঠীর ৮১ শতাংশ নিজেদের খ্রিষ্টান বলে পরিচয় দিয়েছেন, কিন্তু মাত্র ১৩ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে গির্জায় যান।
জরিপে দেখা গেছে, এই গোষ্ঠীর ৩১ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে প্রার্থনা করেন এবং ৪৭ শতাংশ বাইবেলের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের মনোভাব অভিবাসন ও ইসলামের প্রতি প্রবল বিরূপ। মাত্র ১৯ শতাংশ মনে করেন, খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাগত জানানো উচিত। জনজীবনে সব ধর্মের মানুষের সমান আচরণ পাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এ গোষ্ঠীর মাত্র ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে, ‘বিশ্বাসকেন্দ্রিক সমন্বয়বাদী’ গোষ্ঠীটি ধর্মীয় অনুশীলনে তুলনামূলক সক্রিয়। এই গোষ্ঠীর ৩১ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে গির্জায় যান, ৪৬ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে প্রার্থনা করেন এবং ৬২ শতাংশ বাইবেলের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই গোষ্ঠীরও মাত্র ১৮ শতাংশ মনে করেন, খ্রিষ্টান হওয়ার জন্য ব্রিটেনের খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
থিওসের জ্যেষ্ঠ ফেলো নিক স্পেনসার বলেছেন, খ্রিষ্টান পরিচয়ের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত দুটি গোষ্ঠীর আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে মনোভাবের পার্থক্যের পেছনে ধর্মীয় অনুশীলন ও জাতিগত গঠনের ভূমিকা থাকতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ধর্মীয় আচার-অনুশীলনে বেশি সক্রিয় খ্রিষ্টানদের গোষ্ঠীটি পাঁচটি গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাতিগত বৈচিত্র্যপূর্ণ।
"ধারণা হিসেবে খ্রিষ্টধর্ম এবং বাস্তব জীবনে অনুশীলন করা খ্রিষ্টধর্মের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রোববার সকালে বিছানা ছেড়ে উঠে এমন মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো যদি আপনার কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়, যাঁদের আপনি নিজে বেছে নেননি—গির্জার বেঞ্চে আপনার পাশে কে বসবেন কিংবা প্রার্থনার সময় কমিউনিয়নের রেলিংয়ের পাশে কে দাঁড়াবেন, তা আপনি ঠিক করতে পারেন না—তাহলে বিষয়টি আরও মানবিক হয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিক স্পেনসার (থিওসের জ্যেষ্ঠ ফেলো)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ শতাংশ (পরিচয়কেন্দ্রিক সমন্বয়বাদী), ৮১ শতাংশ (খ্রিষ্টান পরিচয়), ১৩ শতাংশ (সাপ্তাহিক গির্জা যাত্রী), ৩৭ শতাংশ (অসন্তুষ্ট, গির্জা বন্ধ করে মসজিদ করা হলে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!