📌 ১৯৮৭ সালে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা দেখে বিস্মিত হন। চার দশক পরে, ব্রিটেনের ৬ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছে। তবে অভিবাসী নারীদের কর্মসংস্থান হার এখনো কম
১৯৮৭ সালে ব্রিটেনের তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস (বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস) পূর্ব লন্ডনের স্পিটালফিল্ডস এলাকায় বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা দেখে বিস্মিত হন। তিনি লন্ডনের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বসবাস ও কর্মসংস্থানের অবস্থা ভারতীয় উপমহাদেশের তুলনায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন। চার দশক পরে, ব্রিটেনের ৬ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি (যাদের ৯০ শতাংশ মুসলিম) তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পেরেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৮৭ সালে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা দেখে বলেছিলেন, ‘তাদের অবস্থা ভারতীয় উপমহাদেশের তুলনায় ভালো নয়’
- 📌 ব্রিটেনে বসবাসকারী ৬ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশির ৯০ শতাংশ মুসলিম, তাদের মধ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি
- 📌 ১৯৮৫ সালের সরকারি প্রতিবেদনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফলাফল ‘অত্যন্ত খারাপ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, কিন্তু ২০২১ সালে ৬৭ শতাংশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে
- 📌 ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মসংস্থানে যুক্ত, কিন্তু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অভিবাসী নারীদের মাত্র ৩২ শতাংশ কর্মরত
- 📌 প্রকৌশল ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা গত দশকে যথাক্রমে দ্বিগুণ ও তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
১৯৮০-এর দশকে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা ছিল কঠিন। সরকারি প্রতিবেদনে তাদের স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হতো। ১৯৮৫ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, স্কুলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফলাফল ‘অত্যন্ত খারাপ’। শিক্ষার অভাব ও বর্ণবাদের ভয় তাদের পরিবারগুলিকে স্থানীয় স্কুলেই পাঠাতে বাধ্য করেছিল। শিক্ষকদেরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি আশা করা হতো না।
পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এই চিত্রকে পরিবর্তন করে ফেলেছে। ২০১০-এর দশকের শুরুতে জিসিএসই পরীক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে শুরু করে। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জিসিএসই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, যেখানে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের এই হার ছিল মাত্র ৩৮ শতাংশ।
শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিবর্তন শুধু সংখ্যায়ই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশি তরুণরা উচ্চশিক্ষায় ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে শুরু করেছে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে, আর চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দন্তচিকিৎসায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই উন্নতির পথে অভিবাসী নারীদের কর্মসংস্থান হার এখনো কম। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মসংস্থানে যুক্ত, কিন্তু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অভিবাসী নারীদের মাত্র ৩২ শতাংশ কর্মরত।
“তারা যে পরিবেশে কাজ করছে, বসবাস করছে, তা ভারতীয় উপমহাদেশের অবস্থার চেয়ে কোনো অংশে ভালো নয়। বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রিটেন (লন্ডন, স্পিটালফিল্ডস), ইংল্যান্ড, ওয়েলস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজা তৃতীয় চার্লস (তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস), বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা, বাংলাদেশি নারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখ ৫০ হাজার (ব্রিটেনে বাংলাদেশি), ৯০ শতাংশ (মুসলিম), ৬৭ শতাংশ (বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি), ৩৮ শতাংশ (শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি), ৬৮ শতাংশ (ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি নারী কর্মসংস্থান), ৩২ শতাংশ (বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি নারী কর্মসংস্থান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!