📌 ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের পরিণামে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি দেখা দিলে ইইউতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। ৫২ শতাংশ মানুষ ইইউতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, কিন্তু গণভোটের ঝুঁকি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সতর্কতা দেখাচ্ছে
১০ বছর আগের সেই সকালের ঘটনাটি ব্রিটেনের রাজনীতিতে এখনও অদম্য আঘাত হিসেবে রয়ে গেছে। সান্ডারল্যান্ডের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার মাত্র ২০ মিনিট পর ৬১.৩ শতাংশ ভোটার ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিলেও, ভোর ৪:৪০ মিনিটে বিবিসির ঘোষণা ব্রিটেনকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে দিল। ব্রেক্সিটের পরিণামে রাজনৈতিক সার্কাসের মতো হয়ে উঠলো দেশটি — ১০ বছরে সাতজন প্রধানমন্ত্রী বদল হলো। লেবার ও কনজারভেটিভ উভয় দলই ক্ষতবিক্ষত হলো, কিন্তু ব্রেক্সিটের ভুলের জন্য কোনো দলই দায় স্বীকার করতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেক্সিটের পরিণামে ব্রিটেনের জিডিপি ৮ শতাংশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে
- 📌 ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ জনগণ ইইউতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, কিন্তু ২৯ শতাংশের মতই বাইরে থাকতে চায় — জনমত এখনো ভঙ্গুর
- 📌 বর্তমান টোরি সরকারের চুক্তি (বরিস জনসন/লর্ড ফ্রস্টের) অকার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে, যা ব্রেক্সিটপন্থীদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে
- 📌 সাইবার হামলা ও বৈদেশিক বিনিয়োগের হ্রাসের কারণে ইইউতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে উঠে এসেছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধা
- 📌 গণভোটের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলা হচ্ছে, আগের মতো ‘৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়’ বা ‘তুর্কিরা আসছে’-এর মতো মিথ্যা আশ্বাসের কারণে জনগণ আর বিশ্বাসী নয়
📰 বিস্তারিত
ব্রেক্সিটের পর থেকে ব্রিটেনের বিশ্বরাজনীতিতে একাকিত্বের দৃশ্য দেখা দিয়েছে। ইইউর বড় জোট থেকে বেরিয়ে পড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে ব্রিটেন। মিত্রদের সঙ্গে সার্বভৌমত্ব ভাগ করে নিতে হচ্ছে, যা ব্রেক্সিটপন্থীদের কাছে একটা মিথ্যা মরীচিকা মনে হয়। তবে ইইউতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে উঠে এসেছে পাসপোর্টের দীর্ঘ সারির সমস্যা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হারিয়ে যাওয়া বৈদেশিক বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনা।
থিঙ্কট্যাংক ‘আইপিপিআর’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউর পূর্ণ সদস্যপদ ব্রিটেনের জন্য অপরিহার্য। ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের জিডিপি ৮ শতাংশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমান বরিস জনসন/লর্ড ফ্রস্টের চুক্তি এতটাই অকার্যকর যে, তা বজায় রাখা দায়িত্বহীনতার মতো মনে হয়। তবে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক ইইউ রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, তিনি ক্ষমতায় এলে সব পরিবর্তন বাতিল করবেন, যা ব্রাসেলসের আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
অন্যদিকে, ব্রেক্সিটের কারিগর মাইকেল গোভ এখনো দাবি করছেন, তিনি কোনো কিছুর জন্য অনুতপ্ত নন। কিন্তু জনগণ আর তার কথায় বিশ্বাসী নয়। জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ মানুষ আবার ইইউতে যোগ দিতে চায়, আর ২৯ শতাংশ বাইরে থাকতে চায়। তবে এই সমর্থন এখনো ভঙ্গুর — ইউকিপ এবং টোরি ব্রেক্সিটপন্থীদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।
"সার্বভৌমত্ব আসলে এক প্রকার মরীচিকা; কারণ প্রতিটি চুক্তি বা বাণিজ্যচুক্তির জন্য মিত্রদের সঙ্গে সার্বভৌমত্ব ভাগ করে নিতে হয়।"
গণভোটের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলা হচ্ছে, আগের মতো ‘সপ্তাহে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে’ বা ‘তুর্কিরা আসছে’-এর মতো মিথ্যা আশ্বাসের কারণে জনগণ আর বিশ্বাসী নয়। এখন মানুষের প্রধান চিন্তা জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন নয়। জ্বালানি, পানি, পরিবহন বা বিমান চলাচলের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলোতে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, তাই ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রিটেন, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বরিস জনসন, লর্ড ফ্রস্ট, কেমি ব্যাডেনক, মাইকেল গোভ, ডেভিড ক্যামেরন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬১.৩%, ৮%, ৫২%, ২৯%, ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!