📌 আর্জেন্টিনার খ্যাতিমান সাহিত্যিক হোর্হে লুইস বোর্হেসের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন লেখক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে ভাষা, অন্ধত্ব ও গোলকধাঁধার মতো বিষয়
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এনকাউন্টার পত্রিকার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদগ্ধ সমাজ পরিচিত হন হোর্হে লুইস বোর্হেসের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে। তাঁর লেখনীতে বাহুল্যবর্জিত বর্ণনা ও অন্তর্লোকে মর্মভেদী দৃষ্টিক্ষেপ পাঠকদের বিমোহিত করেছে। খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের নিবন্ধ ‘অন্ধজনের আলো: বোর্হেস ও তাঁর গোলকধাঁধা’ ১৯৯৯ সালের ৩ আগস্ট প্রথম আলোর সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮৯৯ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বোর্হেস
- 📌 ছয় বছর বয়সে স্প্যানিশ ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই লেখালেখি শুরু করেন তিনি
- 📌 নয় বছর বয়সে অস্কার ওয়াইল্ডের একটি গল্প স্প্যানিশে অনুবাদ করে প্রকাশ করেন
- 📌 পনেরো বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে ফরাসি ও লাতিন ভাষায় অধ্যয়ন করেন
- 📌 নিজস্ব প্রচেষ্টায় জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষা আয়ত্ত করেন
- 📌 আলব্রাইসমো ও আলত্রেইস্ত সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীকালে বিরূপ মন্তব্য করেন
- 📌 আর্জেন্টিনার একনায়ক পেরনের শাসনামলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জেল খাটেন এবং তিনি চাকরিচ্যুত হয়ে মুরগির ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন
- 📌 বংশানুক্রমিক অন্ধত্বের কারণে শেষ জীবনে প্রায় অন্ধ হয়ে যান
📰 বিস্তারিত
বোর্হেসের সাহিত্যপথ শুরু হয়েছিল কবিতা ও পুস্তক সমালোচনার মধ্য দিয়ে। তাঁর লেখনীতে উঠে আসে ভাষার প্রতি অসাধারণ দক্ষতা ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি। তাঁর বাবা ছিলেন আইনজীবী এবং মনস্তত্ত্বের শিক্ষক, আর পিতামহী ছিলেন ইংরেজ। পারিবারিক পরিবেশে ইংরেজি ভাষার প্রভাব তাঁর সাহিত্যকর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছয় বছর বয়সে তিনি স্প্যানিশ ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই লেখালেখি শুরু করেন। নয় বছর বয়সে অস্কার ওয়াইল্ডের একটি গল্প স্প্যানিশে অনুবাদ করে স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশ করেন।
পনেরো বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি ফরাসি ও লাতিন ভাষায় অধ্যয়ন করেন। নিজস্ব প্রচেষ্টায় তিনি জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষাও আয়ত্ত করেন। তাঁর ভাষা শিক্ষার প্রতি অনন্য দক্ষতা তাঁকে সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।
বোর্হেস আলব্রাইসমো ও আলত্রেইস্ত সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তীকালে তিনি এই আন্দোলন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল উগ্র আধুনিকতাবাদ ও হালকা বিষয়বস্তু। আর্জেন্টিনার একনায়ক পেরনের শাসনামলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জেল খাটেন। তিনি নিজেও চাকরিচ্যুত হয়ে মুরগির ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হন।
"বাবার পাঠাগারে বহু সময় ধরে বহু গল্প-উপন্যাস পড়েছি। মনে হয়, আমি যেন আজও সেই পাঠাগারেই রয়ে গেছি। অন্ধত্বপ্রাপ্তির কালে বই থেকে পাওয়া কাহিনি, ফ্যান্টাসি ও রূপকারের জন্য সারা জীবনই আমি খুলেছি, আবার বয়ন করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আর্জেন্টিনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোর্হে লুইস বোর্হেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ আগস্ট, ৯ বছর, ৫৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!