📌 জার্মানির বার্লিনে অভিবাসী পরিবারের সন্তান এলিফ এরাল্প বামপন্থী দল ডি লিংকে-র নেতৃত্বে রাজনৈতিক বিজয়ে উঠে এসেছেন। তিনি ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে রাজনৈতিক মঞ্চে এনে দিয়েছেন। অভিবাসী পটভূমি থেকে উত্থান ও বামপন্থী রাজনীতির নতুন মুখ হিসেবে তিনি জার্মানির রাজনীতিতে আলোচিত হয়ে উঠেছেন
বার্লিনের রাজনৈতিক মঞ্চে অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে উঠে এসেছেন এলিফ এরাল্প। ৪৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী বামপন্থী দল ডি লিংকে-র নেতৃত্বে বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে অন্যতম বড় বিজয়ী হয়ে উঠেছেন। তাঁর দলের এই জয়ের ফলে বার্লিনের পরবর্তী গভর্নিং মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরাল্প নিজেকে অভিবাসী পরিবারের পটভূমি থেকে উঠে আসা একজন রাজনীতিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে আবাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৫ বছর বয়সী এলিফ এরাল্প জার্মানির বার্লিনে বামপন্থী দল ডি লিংকে-র নেতৃত্বে রাজ্য নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে উঠেছেন এবং পরবর্তী গভর্নিং মেয়র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।
- 📌 তুরস্কের সামরিক অভ্যুত্থান (১৯৮০) থেকে জার্মানিতে অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি। তাঁর বাবা-মা ছিলেন সমাজতন্ত্রী ও ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী।
- 📌 ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে জার্মানির সরকারি দমন-পীড়নের সমালোচনা করেছেন তিনি। বলেছেন, জার্মানিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে হবে এবং ইসরায়েলি সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।
- 📌 আবাসন সংকট ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে রাজনৈতিক মঞ্চে এনে দিয়েছেন। তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি আবাসন নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
- 📌 নিউইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতিক জোহরান মামদানি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন।
- 📌 ইহুদি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
১৯৮০ সালের তুরস্কের সামরিক অভ্যুত্থানের পর নিপীড়নের আশঙ্কায় এলিফ এরাল্পের বাবা-মা জার্মানিতে অভিবাসী হন। সেই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮১ সালে জার্মানির মিউনিখে তাঁর জন্ম। পরিবারটি পরে ডর্টমুন্ড এবং হামবুর্গে চলে যায়। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। অল্প বয়সেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এরাল্প। শিশু বয়সে পরিবেশবাদী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরমাণু অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। আইন পড়াশোনা শেষ করে ২০১০ সালে বার্লিনে আসেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ডি লিংকের আইন বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।
২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ডি লিংকে-তে যোগ দেন তিনি। তাঁর মতে, এই দলের প্রয়োজন ছিলো এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি যা উদারনৈতিক অর্থনৈতিক নীতির বিকল্প প্রস্তাব করবে এবং উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) এর উত্থানের মোকাবিলা করবে। ২০১৮ সালে তিনি ডি লিংকের বার্লিন কমিটিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে প্রাদেশিক পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন। পরে তিনি পার্লামেন্টারি দলের উপনেতা হন এবং গত বছর থেকে বার্লিনে দলের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এরাল্পের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে উঠেছে বার্লিনের আবাসন সংকটের চারপাশে। তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সরকারি আবাসন নির্মাণ এবং বড় আবাসন কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন সম্পত্তি সরকারি মালিকানায় নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বড় সম্পত্তি কোম্পানিগুলোর প্রভাব সীমিত করার দাবি জানিয়েছেন এবং ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সুরক্ষার দাবি করেছেন। তাঁর এই অবস্থান তাকে ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি সেবার মতো মানুষের দৈনন্দিন উদ্বেগকে কেন্দ্র করে ব্যাপকভাবে প্রচার চালানোর সুযোগ দিয়েছে।
"ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে হবে এবং ইসরায়েলি সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। জার্মানিকে অবশ্যই তাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বার্লিন, জার্মানি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এলিফ এরাল্প, জোহরান মামদানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!