📌 ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশি যোদ্ধাদের 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেনের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, রাশিয়া তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহার করছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এতে ৩০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছে
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি যোদ্ধাদের 'মানব টোপ' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার তরুণ রাজন হোসেনের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, রাশিয়া তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহার করছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এতে ৩০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নিহত: ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিদের 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করে রাশিয়া ৩০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নিহত করেছে। প্রথমদিনেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়, পরে আরও ৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
- 📌 চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি: বাংলাদেশের একটি ট্রাভেল এজেন্সি চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঝিনাইদহের রাজন হোসেনকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে বাধ্য করা হয় রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদান করা।
- 📌 অস্ত্রহীন অবস্থায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো: প্রশিক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় রাজন হোসেনকে। তিনি বলেন, তাদেরকে শনাক্তকরণের জন্য 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের সৈন্যরা তাদের ওপর হামলা করলে রাশিয়া মিসাইল মেরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করত।
- 📌 অমানবিক চিকিৎসা ব্যবস্থা: যুদ্ধক্ষেত্রে আহত রাজন হোসেনকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয় অস্ত্রের বিষয়ে। তিনি বলেন, তাকে মারধর করা হয় এবং চিকিৎসা পাওয়ার আগেই অন্য বাংলাদেশি যোদ্ধার মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
- 📌 পুলিশের সতর্কবার্তা: বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশিদেরকে 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা ঝিনাইদহের তরুণ রাজন হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "কীভাবে কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যে প্রাণে বেঁচে ফিরছি, সে কথা বলে বোঝানো যাবে না।" তিনি বলেন, গত মে মাসে একটি ট্রাভেল এজেন্সি তাকে নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট, ফোন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত আইটেম কেড়ে নিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে বাধ্য করা হয়।
সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর রাজন হোসেনকে প্রথমে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর সরাসরি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, "আমার সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২৯ জনকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথমদিনেই ইউক্রেনের সৈন্যদের ড্রোনের হামলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে আরও তিনজন মিলে আমাদের গ্রুপে মোট ৩০ জন মারা গেছে।"
রাজন হোসেনের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, রাশিয়া তাদেরকে 'টোপ' হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের সৈন্যরা তাদের ওপর হামলা করলে রাশিয়া মিসাইল মেরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করত। তিনি বলেন, "যে সব পয়েন্ট থেকে আমাদের ওপর হামলা হতো, ওইসব পয়েন্টে তারা মিসাইল মেরে তারপর রাশিয়ার সৈন্য পাঠাতো। আগে পাঠালে যে আমরা মারা পড়বো, এটা ওরা জানতো।"
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা যেটা বুঝতে পেরেছি, সেটা হচ্ছে- প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তকরণের জন্য, তাদেরকে এক ধরনের টোপ বা শিকার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।"
রাজন হোসেনের যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার ঘটনা বিস্ময়কর। তিনি বলেন, ড্রোনের আঘাতে তার কোমর ও পা অবশ হয়ে যায়। তিনি হাত ও বুকে ভর দিয়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেনা ক্যাম্পে পৌঁছান। তিনি বলেন, "ওই চারদিন পুরোটাই না খাওয়া অবস্থায় ছিলাম। খাবার তো দূরে থাক, একফোটা পানিও খেতে পাইনি।"
সেনা ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর তাকে প্রশ্ন করা হয় অস্ত্রের বিষয়ে। তিনি বলেন, "বেশ কিছুক্ষণ মারধরের পর একজন সেনা এসে আমাকে কমান্ডারের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর সেখান থেকে নেওয়া হয় ক্যাম্পের অস্থায়ী হাসপাতালে।" তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় অন্য বাংলাদেশি যোদ্ধার মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, "তখন আমি জানতে চাইলাম, মারা যাবে-এটা সে কীভাবে জানে। এটা শুনে উনি বললেন যে, তারা এটা জানে।"
"আমি ভাবছিলাম, ক্যাম্পে যাওয়ার পর সবাই খুশি হবে এবং আমাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করবে। কিন্তু সেটা না করে প্রথমেই কমান্ডার প্রশ্ন করলো যে, আমার অস্ত্র কই?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা, বাংলাদেশ; ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র; রাশিয়ার সেনা ক্যাম্প
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজন হোসেন (২১), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ জন (মোট নিহত বাংলাদেশি), ২৯ জন (প্রথম গ্রুপ), ১৭ জন (প্রথমদিনে নিহত), ৪ কিলোমিটার (যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা ক্যাম্পের দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!