📌 জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার স্বীকৃতি ও বিচারিক সহযোগিতার দাবি তুলেছেন
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখা সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকারদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে
- 📌 রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকা স্বীকৃতি পেতে এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা জোরদার করতে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রস্তাবিত
- 📌 ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আন্তর্জাতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার দাবি তুলেছেন
- 📌 ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য ফৌজদারি তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন
- 📌 সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ ও আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন
- 📌 সনদ দুর্বল হলে তা কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না, সেজন্য সকল দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখা সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সনদ প্রণয়নে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা দরকার।
প্রথমত, অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; এবং তৃতীয়ত, আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নওশাদ জমির বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আন্তর্জাতিক কাঠামোয় ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।’
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো উঠে এসেছে। তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নওশাদ জমির আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সেজন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি নারী-শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
"সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ অধিবেশন), ঢাকা (বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১তম অধিবেশন, ১৪ অক্টোবর, ১০ লাখ রোহিঙ্গা, ১ হাজার ৪০০ মানুষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!