📌 ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে মেগা প্রকল্পের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক মর্যাদা সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার ও নিরাপত্তা উদ্বেগের পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্বও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন
ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে মেগা প্রকল্পের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক মর্যাদা এই সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে — এ কথা বলেছেন ভারতের সাবেক বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সুবিধা খোঁজার পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার ও নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ‘স্টেট-টু-স্টেট’ দৃষ্টিকোণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে — সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন উদ্যোগই এখন প্রাধান্য পাবে।
- 📌 ২৬ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেওয়া চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছিল, সম্পর্কের ভিত্তি হবে মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও যৌথ সুবিধা।
- 📌 ১৩ বিলিয়ন ডলার হল সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য — কিন্তু প্রকৃত অর্থনৈতিক যোগাযোগের পরিমাণ ২৮ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার।
- 📌 গঙ্গাচুক্তি পুনর্নবীকরণে পানি কেবল অর্থনৈতিক বস্তু নয় — এটি সংস্কৃতি, পরিচয় ও পরিবেশের অংশ। বাস্তুতন্ত্রকে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খোঁজার দাবি করেছেন তিনি।
- 📌 বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে সার্বভৌমত্ব ও ১৯৭১ সালের ইতিহাস মনে রেখে — কিন্তু বৈশ্বিক কূটনীতির নীতি অনুসরণ করে।
📰 বিস্তারিত
রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কেবল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা বা মেগা প্রকল্পের ফ্রেমে দেখা যাবে না। তিনি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রভাবে দুই দেশের জনমিতি ও তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহকে প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসস্তূপ ও অমানবিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সেই সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া সহিংসতার চিত্র ভারতীয় গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দুই দেশের সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম মাসেই দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশ যেমন সংবেদনশীল, তেমনি ভারতকেও বাংলাদেশের উদ্বেগ ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনুধাবন করতে হবে। এই পারস্পরিক বোঝাপড়াই সম্পর্কের জন্য একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাত ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অধীন নিজস্ব অবজেক্টিভিটি ও বৈচিত্র্যায়নের নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের অপেশাদারমূলক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ও নির্বিঘ্ন।
"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি সামাজিক নাকি মাধ্যম (মিডিয়া)? — এই প্রশ্নের জবাবে রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সংবেদনশীলতা রক্ষায় গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিয়াজ হামিদুল্লাহ (ভারতের সাবেক বাংলাদেশ হাইকমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৩ বিলিয়ন ডলার, ২৮-৩০ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!