📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার কানাডার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কানাডার সহযোগিতার আহ্বান জানান। জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচন ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা আলোচিত হয়
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহে কানাডার সহযোগিতার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীনের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রোহিঙ্গা সংকট**: প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত আছে, যাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের দাবি পুনরাবৃত্তি করেন।
- 📌 **জ্বালানি সহযোগিতা**: কানাডা বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি সরবরাহে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
- 📌 **শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ**: কানাডা বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, নার্সিং প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ নার্স তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে।
- 📌 **কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা**: কানাডার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
- 📌 **জলবায়ু অর্থায়ন**: কানাডা আগামী পাঁচ বছরে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার জলবায়ু অর্থায়নে বিনিয়োগ করবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এই অর্থায়ন থেকে উপকৃত হবে।
- 📌 **উন্নয়ন প্রকল্প**: কানাডা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানায়।
📰 বিস্তারিত
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।’ তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনরাবৃত্তি করেন এবং বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন।’
কানাডার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে আগ্রহী বলে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সহযোগিতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে কানাডার সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কানাডা বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, নার্সিং প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ নার্স তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।’
কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে কানাডা ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশ এই অর্থায়ন থেকে উপকৃত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে কানাডা আগ্রহী।’
‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত আছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।’ — **প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান**
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রণদীপ সরাই (কানাডার প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ লাখ (রোহিঙ্গা), ২৮ লাখ ৫০ হাজার (দারিদ্র্য বিমোচন), ২৫ কোটি (বৃক্ষরোপণ), ১ হাজার ৩০০ কোটি (কানাডীয় ডলার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!