📌 অস্ট্রেলিয়ার সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাটের বিরুদ্ধে ৩০টি হত্যা ও নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, তিনি ১৯৮৯-৯৩ সালের মধ্যে সাতজন ব্যাকপ্যাকারকে হত্যা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন, কিন্তু নতুন তদন্তে আরও ১৭টি হত্যা ও ১৪টি নিখোঁজের ঘটনায় তার সম্ভাব্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে
অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাটের অপরাধের পরিধি আরও বাড়তে পারে। নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পার্লামেন্টের তদন্তে জানা গেছে, তিনি অন্তত ৩০টি হত্যা ও নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। ১৯৯৬ সালে সাতজন ব্যাকপ্যাকারকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন মিলাট, কিন্তু নতুন তদন্তে তার অপরাধের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাটের বিরুদ্ধে ৩০টি হত্যা ও নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ উঠেছে — এর মধ্যে ১৭টি হত্যা ও ১৪টি নিখোঁজের ঘটনা তদন্তের আওতায় এসেছে
- 📌 ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে বেলানগ্লো স্টেট ফরেস্টে সাতজন ব্যাকপ্যাকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যাদের হত্যা করে ইভান মিলাটকে ১৯৯৬ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল
- 📌 ২০১৯ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৭৪ বছর বয়সে কারাগারে মৃত্যুবরণ করলেও, তার অপরাধের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে তদন্তে জানা গেছে
- 📌 তদন্তের চেয়ারম্যান জেরেমি বাকিংহাম বলেছেন, ১৯৭৫ সালেই মিলাটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে পাঠানোর সুযোগ ছিল, যা হতে গেলে সম্ভবত এত মানুষের প্রাণ দিতে হতো না
- 📌 ১৯৮৭ সালে নিখোঁজ হওয়া ১৮ বছর বয়সী পিটার ডেভিড লেচারের হত্যার ঘটনায় পুলিশ মিলাটের জড়িত থাকার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে, কিন্তু প্রমাণের অভাবে মামলা এগোয়নি
- 📌 ১৯৭১ সালে ধর্ষণ ও দুটি সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগেও মিলাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, কিন্তু সাক্ষ্যের অস্পষ্টতার কারণে তিনি খালাস পেয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের তদন্তে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার সিরিয়াল কিলার ইভান মিলাটের বিরুদ্ধে ৩০টি হত্যা ও নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ উঠেছে। তদন্তে পুলিশ ১৭টি হত্যা ও ১৪টি নিখোঁজের ঘটনা শনাক্ত করেছে, যেগুলোর সঙ্গে মিলাটের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। তদন্তের চেয়ারম্যান জেরেমি বাকিংহাম বলেছেন, এসব ঘটনা মিলাটের সঙ্গে যুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও প্রায় ৩০টি বাড়তে পারে।
১৯৯৬ সালে ইভান মিলাটকে সাতজন ব্যাকপ্যাকারের হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেলানগ্লো স্টেট ফরেস্টে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে মিলাটের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তার অপরাধের পরিধি সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য জানা যায়নি। ২০১৯ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৭৪ বছর বয়সে কারাগারে মৃত্যুবরণ করলেও, তার অপরাধের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালেই মিলাটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তদন্তের চেয়ারম্যান জেরেমি বাকিংহাম বলেন, এটা সম্ভব হলে হয়তো এত মানুষকে প্রাণ দিতে হতো না। মিলাটের বিরুদ্ধে সাত ব্যাকপ্যাকার হত্যার মামলায় প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন সাবেক প্রসিকিউটর মার্ক টেডেসকি কেসি। তিনি বলেছেন, মিলাট আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তাঁর গভীর সন্দেহ ছিল, কিন্তু প্রমাণের অভাবে তাকে অভিযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
১৯৮৭ সালের নভেম্বরে হিচহাইকিং করার সময় নিখোঁজ হন ১৮ বছর বয়সী পিটার ডেভিড লেচার। দুই মাস পর জেনোলান স্টেট ফরেস্টে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস ইলিংওয়ার্থ তদন্তে জানান, মিলাট এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে পুলিশ তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত ছিল। এ ঘটনায় একটি প্রমাণপত্র প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় মামলা এগোয়নি। বর্তমানে সেই নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
১৯৭১ সালে ধর্ষণ ও দুটি সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগেও মিলাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের মামলায় এক সাক্ষীর অস্পষ্ট সাক্ষ্যের পর তিনি খালাস পেয়ে যান। ডাকাতির অভিযোগ থেকেও খালাস পান তিনি; একই মামলার অন্য তিন আসামিকে ১২, ১৬ ও ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলার আদালত-নথিও বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
"১৯৭৫ সালেই মিলাটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এটা সম্ভব হলে হয়তো এত মানুষকে প্রাণ দিতে হতো না।"
জেরেমি বাকিংহাম পুরোনো মামলাগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় কমিশন ও বিশেষ পুলিশ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া (নিউ সাউথ ওয়েলস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইভান মিলাট, জেরেমি বাকিংহাম, পিটার ডেভিড লেচার, মার্ক টেডেসকি কেসি, ক্রিস ইলিংওয়ার্থ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০টি হত্যা-নিখোঁজ, ১৭টি হত্যা, ১৪টি নিখোঁজ, ৭৪ বছর বয়স, ১৯৮৯-১৯৯৩, ১৯৭৫, ১২, ১৬, ১৮ বছর কারাদণ্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!