📌 রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন ও বিনিয়োগে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলকে সাক্ষাৎকালে তিনি এলএনজি আমদানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে সহযোগিতার প্রসার ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলকে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জ্বালানি নিরাপত্তা**: রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে, বিশেষত এলএনজি আমদানিতে।
- 📌 **দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন**: অস্ট্রেলিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশলী পেশাজীবীদের অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।
- 📌 **বিনিয়োগ বৃদ্ধি**: অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চিকিৎসা খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
- 📌 **শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ**: অস্ট্রেলিয়ার টিএএফই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের টিটিসির সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।
- 📌 **রোহিঙ্গা সংকট**: অস্ট্রেলিয়ার মানবিক সহায়তা ও টেকসই সমাধানে সহযোগিতার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
- 📌 **বাণিজ্যিক বৈঠক**: আগামী নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠককে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে আশা প্রকাশ করেন।
📰 বিস্তারিত
সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন। এছাড়া অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি পেশাজীবীদের, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশলী ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অব্যাহত সহযোগিতা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির জন্য কর্মোপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার টিএএফই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।
সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার অস্ট্রেলীয় ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।
"বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করছি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দিচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বঙ্গভবন), অস্ট্রেলিয়া (ক্যানবেরা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ অক্টোবর (সাক্ষাৎ তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!