📌 অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশিদের জন্য সরাসরি কৃষি ভিসা দেয় না, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রামে দালালরা লাখ টাকার প্রতারণা চালাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার ‘কাজ ও ভ্রমণ’ ভিসা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় কৃষি খাতের চাপে সরকার কিছু পরিবর্তন আনলেও তা বাংলাদেশিদের জন্য নয়
অস্ট্রেলিয়ার কৃষি ভিসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার দালালরা লাখ লাখ টাকার প্রতারণা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ‘কৃষিকাজের ভিসা’ পাওয়ার আশায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য কোনো সরাসরি কৃষি ভিসা নেই। দালালেরা অস্ট্রেলিয়ার ‘কাজ ও ভ্রমণ’ ভিসা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশিদের জন্য সরাসরি কৃষি ভিসা দেয় না, কিন্তু দালালরা ‘১০-১৫ দিনে ভিসা’ দাবি করে প্রতারণা চালাচ্ছেন
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার ‘কাজ ও ভ্রমণ’ ভিসার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় কৃষি খাতের চাপে সরকার ১৭ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, কিন্তু তা বাংলাদেশিদের জন্য নয়
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার ‘কাজ ও ভ্রমণ’ ভিসা পেতে বাংলাদেশের মতো দেশের নাগরিকদের লটারি পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের নাম নেই
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার খামারে শ্রমিক আসেন ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় শ্রম চলাচল কর্মসূচি’ (পাম) এর মাধ্যমে, যেখানে বাংলাদেশের নাম নেই
- 📌 দালালেরা ‘কৃষি ভিসা’র নামে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ‘কাজ ও ভ্রমণ’ ভিসার নামেও প্রতারণা চালাচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিকদের জন্য দ্রুত ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া’ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন এলাকায় দালালরা প্রতারণার ফাঁদ বসিয়ে রেখেছেন। প্রতিদিনই ফোন ও মেসেঞ্জারে অস্ট্রেলিয়া ভিসা নিয়ে প্রশ্ন আসছে। অনেকেই মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশাল খামারগুলো বাংলাদেশিদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য কোনো সরাসরি কৃষি ভিসা নেই।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় কৃষক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার খামারে প্রতি সাতটি কাজের একটি করে করেন ‘কাজ ও ভ্রমণ’ ভিসাধারী তরুণেরা। কিন্তু এই ভিসার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা অসন্তুষ্ট। চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক ১৭ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন যে, দক্ষ কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের অগ্রাধিকার তালিকায় কৃষি ও মৎস্য খাত যোগ হবে। তবে এই ঘোষণা বাংলাদেশিদের জন্য নয়। বরং এই ঘোষণায় বলা হয়েছে, কাজ ও ভ্রমণ ভিসার প্রথম বছরের আবেদন আবার স্বাভাবিক গতিতে নিষ্পত্তি হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে যা ছিল ‘খামারের জন্য দ্রুত ভিসা’, বাংলাদেশে তা হয়ে গেল ‘বাংলাদেশিদের জন্য কৃষি ভিসা’। কিন্তু আসলে অস্ট্রেলিয়া সরকার কোনো নতুন ভিসা খোলেনি। বরং কাজ ও ভ্রমণ ভিসার দ্বিতীয় বছরের জন্য এখন থেকে লটারি হবে, যেখানে আসন ৪৫ হাজার। গত বছর যোগ্য হয়েছিলেন প্রায় ৫৭ হাজার জন। তৃতীয় বছরের আসন মাত্র ৫ হাজার, যেখানে গত বছর এই দলে ছিলেন প্রায় ৩১ হাজার। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া সরকার দরজা খুলছে না, বরং আরও আঁটসাঁট করছে।
অস্ট্রেলিয়ার খামারে বিদেশি শ্রমিক আসেন ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় শ্রম চলাচল কর্মসূচি’ (পাম) এর মাধ্যমে। এই কর্মসূচি খোলা কেবল ৯টি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ ও তিমুর-লেস্তের জন্য। বাংলাদেশের নাম এই তালিকায় নেই। কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এতে যোগ দিতে কাউকে টাকা বা উপহার দিতে হয় না। কিন্তু ঢাকা, চট্টগ্রাম বা খুলনায় বসে যিনি ‘কৃষি ভিসা’র নামে লাখ লাখ টাকা চাইছেন, তিনি কোনো কর্মসূচির প্রতিনিধি নয়।
"অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে যা ছিল ‘খামারের জন্য দ্রুত ভিসা’, বাংলাদেশে পৌঁছে তা হয়ে গেল ‘বাংলাদেশিদের জন্য কৃষি ভিসা’। অথচ ওই ঘোষণা নতুন কোনো দরজা খোলেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, অস্ট্রেলিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক, দালালেরা, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় কৃষক ফেডারেশনের কর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১৫ দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর, ৪৫ হাজার, ৫৭ হাজার, ৫ হাজার, ৩১ হাজার, ৯টি দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!