📌 গুয়াহাটি হাইকোর্ট মমতাজ বেগমের সন্ধান পেতে ভারত ও আসাম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। নারীকে জুনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পাননি তিনি। আদালত প্রশাসনের দায়িত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেছে
গুয়াহাটি হাইকোর্ট মমতাজ বেগমের সন্ধান পেতে ভারতের কেন্দ্রীয় ও আসাম সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গত জুনে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া এই নারীর সন্ধান পেতে আদালত প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে। মমতাজ বেগমের স্বামী আদালতে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন জানান, কিন্তু তিনি ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পাননি। ফলে উচ্চতর আদালতে আবেদনের সুযোগও পাননি তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মমতাজ বেগমকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার সন্ধান পেতে আদালত ভারত ও আসাম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের মে মাসের রায়ের অনুলিপি পাননি মমতাজ বেগম, ফলে উচ্চ আদালতে আবেদনের সুযোগও পাননি তিনি।
- 📌 বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও প্রাঞ্জল দাসের ডিভিশন বেঞ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য প্রশাসনকে নারীর বর্তমান অবস্থান খুঁজে বের করতে বলেছে।
- 📌 ২০১৯ সালে মমতাজ বেগমকে বিদেশি নাগরিক বলে ঘোষণা করেছিল ট্রাইব্যুনাল, কিন্তু উচ্চ আদালত সেই রায় খারিজ করে নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিল।
- 📌 আদালতের নির্দেশে প্রশাসনকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।
📰 বিস্তারিত
গত মে মাসে আসামের নগাঁওয়ের চার নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে মমতাজ বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এরপর জুন মাসে নগাঁও থেকে গোয়ালপাড়ার মাটিয়া আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের সারসংক্ষেপের তারিখ নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হয়েছে, কিন্তু সেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য প্রশাসনকে অবিলম্বে নিখোঁজ নারীর বর্তমান অবস্থান খুঁজে বের করতে হবে। এই ঘটনা নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় আইনি ধারাবাহিকতা ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। প্রশাসনিক নির্দেশে কোনো মানুষকে সীমানার ওপারে পাঠালেও তাঁর জীবনের সুরক্ষা ও অবস্থানের তথ্য সরকারি স্তরে থাকা কতটা জরুরি, তা এই রায়ে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, নারীর সন্ধান পেতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শুনানিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের দেওয়া হলফনামার ওপর ভিত্তি করে মামলাটি নতুন মোড় নিতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালে মমতাজ বেগমকে বিদেশি নাগরিক বলে ঘোষণা করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে উচ্চ আদালত আগের সেই রায় খারিজ করে নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, নির্ধারিত দিনে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীকে নিয়ে উপস্থিত হওয়ার পর তাঁর আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
"পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য প্রশাসনকে অবিলম্বে নিখোঁজ নারীর বর্তমান অবস্থান খুঁজে বের করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আসামের নগাঁও, ভারত; গোয়ালপাড়া, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতাজ বেগম, বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা, বিচারপতি প্রাঞ্জল দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৯, মে মাস, জুন মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!