📌 আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩২.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের দারিদ্র্য-হ্রাসের অগ্রগতি পিছিয়ে গেছে। বিশেষত শিশুদের ক্ষতির হার সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদরা কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বকে দায়ী করছেন
আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩২.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সাথে মানুষের আয় তাল মিলিয়ে বাড়তে না পারায়, দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতি পিছিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩২.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে — ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধের তুলনায় ৪.১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি
- 📌 চরম দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৭.৫ শতাংশে পৌঁছেছে — ২০২৫ সালের ৬.৩ শতাংশ থেকে
- 📌 ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ৪৪.৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে — তাদের মধ্যে ১০.৮ শতাংশ চরম দরিদ্র
- 📌 ৩৪০ ডলারের মৌলিক পণ্য ও পরিষেবা বহন করতে না পারা মানুষকে দরিদ্র হিসেবে গণ্য করা হয় — ১৫০ ডলারের ক্ষেত্রে চরম দরিদ্র
- 📌 কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বের হার ৭.৯ শতাংশে পৌঁছেছে — ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ
- 📌 মিলেইয়ের ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে
📰 বিস্তারিত
আর্জেন্টিনার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইন্ডেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দারিদ্র্যের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে দারিদ্র্যের হার ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষত শিশুদের ক্ষতির হার সর্বোচ্চ — ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪৪.৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। এর মধ্যে ১০.৮ শতাংশ শিশু চরম দরিদ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
মুক্তবাজারপন্থী নীতির উপর ভিত্তি করে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের প্রথম দুই বছরে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার পর, মূল্যস্ফীতির পুনরাবৃত্তি এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এই অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫২.৯ শতাংশ, কিন্তু মিলেইয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার ফলে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তা কমে ২৮.২ শতাংশে নেমে আসে। তবে, মূল্যস্ফীতির পুনরাবৃত্তি এবং অর্থনৈতিক নীতির কারণে দারিদ্র্যের হার আবার বেড়ে গেছে।
আর্জেন্টাইন ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউসিএ) সামাজিক ঋণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের গবেষক এদুয়ার্দো দোনজা দাবি করেছেন, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং বেকারত্বের হার দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তিনি বলেছেন, ‘বেকারত্ব নয়, চাকরির অনিশ্চয়তা হল সবচেয়ে বড় সমস্যা। পরিবারগুলো যখন আয় থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তারা বর্জ্য সংগ্রহ, রাস্তায় পণ্য বিক্রি বা রেলস্টেশনে খাবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হয়।’
"সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব নয়, চাকরির অনিশ্চয়তা। কারণ পরিবারগুলো যখন আয় থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তাদের কোনো না কোনো কাজ খুঁজে নিতে হয়—যেমন বর্জ্য সংগ্রহ, রাস্তায় পণ্য বিক্রি বা রেলস্টেশনে খাবার বিক্রি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আর্জেন্টিনা (দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাভিয়ের মিলেইয় (প্রেসিডেন্ট), এদুয়ার্দো দোনজা (গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২.৩ শতাংশ (দারিদ্র্যের হার), ৭.৯ শতাংশ (বেকারত্বের হার), ৩০ হাজার (বন্ধ প্রতিষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!