📌 আমেরিকার ফেডারেল আদালতে হুয়াওয়াকে 'অপরাধী সংস্থা' হিসেবে অভিযুক্ত করে মামলা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হুয়াওয়া দুই দশক ধরে মার্কিন কোম্পানিদের প্রযুক্তি চুরি, ব্যাংক ধোঁকাবাজি এবং ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে। হুয়াওয়া অস্বীকার করে বলেছে, এটি একটি প্রতিযোগিতার মামলা, নয় কোনো ষড়যন্ত্রের। মামলাটি চলবে তিন মাস এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সাথে মিলে যায়
আমেরিকার নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে চীনের প্রযুক্তি দানব হুয়াওয়াকে 'অপরাধী সংস্থা' হিসেবে অভিযুক্ত করে মামলা শুরু হয়েছে। এই মামলা মার্কিন-চীনা প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পরিণত হয়েছে। হুয়াওয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে ১৯৯৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন কোম্পানিদের প্রযুক্তি চুরি, ব্যাংক ও ওয়ায়ার ফ্রড, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন, এবং ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার জন্য। মামলাটি শুরু হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর এবং তিন মাস ধরে চলতে পারে। এই সময়সীমা মিলে যায় চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়াশিংটন সফরের সাথে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মামলার অভিযোগ**: মার্কিন সরকার হুয়াওয়াকে র্যাকেটিং, মoney laundering, ব্যাংক ও ওয়ায়ার ফ্রড, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন, এবং পাঁচটি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির ট্রেড সিক্রেট চুরির ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযুক্ত করেছে। অভিযোগের সময়কাল ১৯৯৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত।
- 📌 **অভিযোগের বিস্তার**: হুয়াওয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে সিস্কো থেকে ইন্টারনেট রাউটারের সোর্স কোড এবং টি-মোবাইল থেকে ফোন টেস্ট করার জন্য ব্যবহৃত রোবটিক আর্ম চুরি করার জন্য। এছাড়াও, ইরানে হুয়াওয়ার কার্যক্রমের প্রকৃত প্রকৃতি লুকিয়ে মার্কিন ডলারকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে অর্থপ্রবাহের ব্যবস্থা করার অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 **ইরানের নজরদারি সফটওয়্যার**: মার্কিন সরকারের অভিযোগ, হুয়াওয়া ইরানের কর্তৃপক্ষকে ২০০৯ সালের প্রতিবাদে নজরদারি করার জন্য সফটওয়্যার সরবরাহ করেছিল।
- 📌 **হুয়াওয়ার প্রতিক্রিয়া**: হুয়াওয়ার আইনজীবী ব্রায়ান হেবারলিগ বলেছেন, "এটি প্রতিযোগিতার মামলা, নয় ষড়যন্ত্রের। উদ্ভাবন, নয় চুরির। সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম, নয় অপরাধমূলক কার্যকলাপ।" তিনি অভিযোগকারীদেরকে বলেছেন, তারা "বিঞ্জানো ঘটনাগুলিকে ষড়যন্ত্রের মতো উপস্থাপন করতে চায়।"
- 📌 **চীনের প্রতিক্রিয়া**: চীনের বৈদেশিক বিষয় মন্ত্রণালয় বলেছে, "চীনা সরকার মার্কিন পক্ষের চীনা প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্যাতন ও বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে শক্তভাবে প্রতিবাদ করে।" তারা বলেছে, তারা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সমর্থন দেবে।
- 📌 **মামলার ইতিহাস**: এই মামলার মূল উৎস ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্বকালে। তার প্রশাসন ২০১৯ সালে হুয়াওয়াকে মার্কিন ট্রেড ব্ল্যাকলিস্টে রাখে এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলিকে ৫জি নেটওয়ার্ক থেকে হুয়াওয়াকে বাদ দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করে।
📰 বিস্তারিত
মামলার শুরুর দিনেই মার্কিন সরকারের আইনজীবী টেইলর স্টাউট বলেছেন, "চুরি, মিথ্যা, লুকানো।" তিনি হুয়াওয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন। মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হুয়াওয়া মার্কিন কোম্পানিদের প্রযুক্তি চুরি করে, ব্যাংককে ধোঁকাবাজি করে এবং ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।
হুয়াওয়ার প্রতিরক্ষা দলের আইনজীবী ব্রায়ান হেবারলিগ বলেছেন, "প্রতিযোগিতা, নয় ষড়যন্ত্র। উদ্ভাবন, নয় চুরি। সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম, নয় অপরাধমূলক কার্যকলাপ।" তিনি অভিযোগকারীদেরকে বলেছেন, তারা "বিঞ্জানো ঘটনাগুলিকে ষড়যন্ত্রের মতো উপস্থাপন করতে চায়।" হুয়াওয়ার প্রতিরক্ষা দলের মতে, কিছু ঘটনা ছিল ব্যক্তিগত কর্মচারীদের কাজ, যা কোম্পানির নীতির প্রতিফলন নয়।
হুয়াওয়া বলেছে, মার্কিন সরকারের এই মামলা তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করার চেষ্টা। তারা বলেছে, মার্কিন সরকারের "সার্বিক কাহিনি স্পষ্টভাবে মিথ্যা" এবং তারা "বুদ্ধিমত্তার অধিকার" সম্পর্কে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রাখে।
"Theft, lies, cover-up,"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউ ইয়র্ক (ব্রুকলিন ফেডারেল আদালত), ওয়াশিংটন (শি জিনপিংয়ের সফর)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ব্রায়ান হেবারলিগ (হুয়াওয়ার আইনজীবী), টেইলর স্টাউট (মার্কিন আইনজীবী), শি জিনপিং (চীনের রাষ্ট্রপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ মাস (মামলার সময়কাল), ১৯৯৯-২০২০ (অভিযোগের সময়কাল), ৫টি (মার্কিন কোম্পানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!