📌 আফগানিস্তানে শীতকালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। মানবিক সহায়তার অর্থের ঘাটতি, অপুষ্টি ও ক্ষুধার জরুরি পরিস্থিতি বাড়ছে
আফগানিস্তানে শীতকালে তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। মানবিক সহায়তায় অর্থের ঘাটতির কারণে দেশটিতে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আফগানিস্তানে শীতকালে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে
- 📌 সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ১ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে
- 📌 শীতকালে ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার জরুরি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে
- 📌 ৪০ লাখের বেশি শিশু (৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী) তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে
- 📌 আফগানিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুষ্টিসেবাকেন্দ্র বন্ধ বা কার্যক্রম স্থগিত
- 📌 নারী ও মেয়েদের ওপর বিধিনিষেধের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার নারী শিক্ষক ও ৫ হাজার ৪০০ নারী স্বাস্থ্যকর্মী হারাতে পারে
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার জেনেভায় সাংবাদিকদের সামনে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) মুখপাত্র ওলগা চেরেভকো এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দেশটির ১ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সংকট পর্যায় বা তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এই সংখ্যা প্রায় প্রতি তিনজন আফগানের একজন। শীতকালে ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার জরুরি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চেরেভকো আরও জানান, আগামী বছর ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৪০ লাখের বেশি শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। অথচ দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুষ্টিসেবাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে বা কার্যক্রম স্থগিত করেছে। অর্থায়ন কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব সেবা হারিয়ে গেলে বিশেষ করে শিশুদের ওপর এমন প্রভাব পড়তে পারে, যা আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
বৃষ্টিপাত ও কৃষি উৎপাদন বাড়লেও লাখ লাখ মানুষের খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। দীর্ঘদিনের সংঘাত, খরা ও অর্থনৈতিক দুর্দশা পরিবারগুলোর সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল করেছে। চেরেভকো বলেন, কয়েক বছরের খরার ক্ষতি একটি ভালো ফসলে পূরণ হওয়ার নয়।
নারী ও মেয়েদের ওপর বিধিনিষেধও সংকট বাড়াচ্ছে। ইউনিসেফের হিসাবে, এসব বিধিনিষেধ চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে আফগানিস্তান ২০ হাজার নারী শিক্ষক ও ৫ হাজার ৪০০ নারী স্বাস্থ্যকর্মী হারাতে পারে। তিনি শীতের আগেই জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং নারীর অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
"এসব সেবা হারিয়ে গেলে বিশেষ করে শিশুদের ওপর এমন প্রভাব পড়তে পারে, যা আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আফগানিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওলগা চেরেভকো (ওসিএইচএ মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৯২ লাখ (খাদ্যসংকটগ্রস্ত), ১ কোটি ৫৯ লাখ (খাদ্যনিরাপত্তাহীন), ৫০ লাখ (ক্ষুধার জরুরি পর্যায়ে), ৪০ লাখ (অপুষ্টি-গ্রস্ত শিশু), ২০ হাজার (হারানো নারী শিক্ষক), ৫ হাজার ৪০০ (হারানো নারী স্বাস্থ্যকর্মী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!