📌 গৌতম আদানি পশ্চিমবঙ্গকে তার দ্বিতীয় কর্মভূমি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০ বছরে ১ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। বন্দর, বিদ্যুৎ, সড়ক, হাসপাতাল ও ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে
ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি পশ্চিমবঙ্গকে তার দ্বিতীয় কর্মভূমি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বড় বিনিয়োগ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে এক লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্দর, কারিগরি খাত, বিদ্যুৎ, সড়ক ও সেতু, গ্রিন সিমেন্ট এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ঘটানো হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গৌতম আদানি ঘোষণা: পশ্চিমবঙ্গে ১০ বছরে ১ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ
- 📌 বন্দর, বিদ্যুৎ, সড়ক, ডেটা সেন্টারসহ ৭টি খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা
- 📌 কলকাতায় ২ হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- 📌 হাসপাতালে ১ হাজার শয্যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত
- 📌 বাংলার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সংস্কৃতির উন্নয়নেও বিনিয়োগের কথা বলেন আদানি
📰 বিস্তারিত
গৌতম আদানি গত বৃহস্পতিবার কলকাতার আলীপুরের তাজ বেঙ্গলে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তিন দশক আগে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর দিয়ে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়েছিল। মুন্দ্রা তাঁর প্রথম কর্মভূমি। এবার বাংলাকে দ্বিতীয় কর্মভূমি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি এই বড় ঘোষণা দিয়েছেন।
আদানি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি রাজ্যটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের পাশেই খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ঝাড়খন্ড, ওডিশা ও ছত্তিশগড় অবস্থিত। এছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলার গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, বন্দর, কারিগরি খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক, সেতু, গ্রিন সিমেন্ট এবং ডেটা সেন্টারের মতো খাতে এখানে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
আদানি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখন দেশের পূর্বাঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাকে আরেকটি গুজরাটে পরিণত করতে চান না। বরং বাংলার নিজস্ব শক্তি, সম্পদ, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন করতে চান।
বক্তব্যে তিনি বাংলার ইতিহাস ও মনীষীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন। স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সামগ্রিক ভাবমূর্তি গঠনে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
গতকাল কলকাতার নিউ টাউনে ২ হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই হাসপাতাল নির্মাণে চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। হাসপাতালের ১ হাজার শয্যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত থাকবে বলে আদানি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগের পাশাপাশি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কার এবং কুমোরটুলি ঘাট পুনরুজ্জীবনের কথাও বলেছেন।
"বাংলাকে আরেকটি গুজরাটে পরিণত করতে চাই না। বরং বাংলার নিজস্ব শক্তি ও সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন করতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গৌতম আদানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ কোটি টাকা (১০ বছরে বিনিয়োগ), ২ হাজার শয্যা (হাসপাতাল), ৪ হাজার কোটি টাকা (হাসপাতাল নির্মাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!