📌 গুজরাতের আহমেদাবাদের গ্যাংস্টার আব্দুল লতিফের নাম রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহার করেছিল বিজেপি। তার অবৈধ মদ ব্যবসা ও সামাজিক প্রভাবের পটভূমিতে গুজরাতের ধর্মীয় মেরুকরণের ইতিহাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে
গুজরাতের আহমেদাবাদের 'ডন' আব্দুল লতিফের নাম রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহার করেছিল বিজেপি। ১৯৯৫ সালের এক ঘটনা থেকে শুরু করে তার সাম্রাজ্য ও রাজনীতিতে প্রভাবের গভীর ইতিহাসের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। পুলিশ কর্মী গীতা জোহরি ও তার দল আব্দুল লতিফের বাড়িতে যাওয়ার সময় তার প্রভাব ও পুলিশের আতঙ্কের ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৯৫ সালে পুলিশের ভ্যান আব্দুল লতিফের বাড়িতে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিল, তার প্রভাবের কারণে
- 📌 গুজরাতে ১৯৫০-১৯৯৫ সালের মধ্যে সর্বাধিক ২৪১ পয়েন্টে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ঘটেছিল
- 📌 অবৈধ মদ ব্যবসায় জড়িত মুসলিম মাফিয়াদের অবদান ছিল গুজরাতের সামাজিক বিভাজনের পেছনে
- 📌 আব্দুল লতিফকে 'রবিন হুড'-এর মতো চিত্রে দেখতেন আহমেদাবাদের মুসলমানরা
- 📌 ১৯৮৫ সালের দাঙ্গায় তিনি মুসলিমদের সহায়তা করেছিলেন, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিল
📰 বিস্তারিত
১৯৯৫ সালের এক ঘটনা থেকে শুরু করে গুজরাতের 'ডন' আব্দুল লতিফের প্রভাবের গল্প। পুলিশ কর্মী গীতা জোহরি ও তার দল আব্দুল লতিফের বাড়িতে যাওয়ার সময় তার প্রভাবের কারণে পুলিশের ভ্যান বাড়িতে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেছিল। এই ছোট্ট ঘটনাটি তার সাম্রাজ্য ও পুলিশের মনোভাবের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছিল।
গুজরাতের আহমেদাবাদে আব্দুল লতিফের নাম শুনলে অধিকাংশ মানুষ তার অপরাধ, খুন ও অবৈধ মদের ব্যবসা নিয়ে কথা বলত। কিন্তু তার রাজনৈতিক যোগাযোগও ছিল ব্যাপক। গুজরাতের সমাজ ও রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল গভীর। গবেষকরা বলেন, গুজরাতে ১৯৫০-১৯৯৫ সালের মধ্যে সর্বাধিক ২৪১ পয়েন্টে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ঘটেছিল, যা ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই সময়ে গুজরাতের শহুরে বাসিন্দাদের প্রতি ১০ লাখের মধ্যে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল দাঙ্গায়।
ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ক্রিস্টোফ ডাফ্রেলো তার বইতে উল্লেখ করেছেন, অবৈধ মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত মুসলিম মাফিয়াদের অবদান ছিল গুজরাতের সামাজিক বিভাজনে। তিনি লিখেছেন, "নিষেধাজ্ঞার কারণে গুজরাতে অবৈধ মদের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। পুলিশের জোর করে টাকা আদায় করার মতো বিষয় এই ব্যবসাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।"
জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ঘনশ্যাম শাহের লেখায় বলা হয়েছে, গুজরাতে ব্যাপকভাবে মনে করা হতো যে সে রাজ্যের 'বেশিরভাগ গুন্ডা' মুসলিম সম্প্রদায়ের। তিনি উল্লেখ করেছেন, "বলা হয় যে 'এই গুন্ডারা' সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করত, কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কারণ তাদের রক্ষা করতেন কয়েকজন কংগ্রেস নেতা এবং এই গুন্ডারাই তাদের জন্য ভোট এনে দিত।"
আব্দুল লতিফ ১৯৫১ সালে আহমেদাবাদের ওল্ড সিটি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি দাউদ ইব্রাহিমের গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। তার প্রধান ব্যবসা ছিল অবৈধ মদ বিক্রি ও সরবরাহ করা, যার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করতেন। ১৯৮০ সালের পর তার প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। ১৯৮৫ সালের দাঙ্গায় তিনি মুসলিমদের সহায়তা করেছিলেন, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিল। প্রফেসর ক্রিস্টোফ জাফ্রেলো তার সম্পর্কে লিখেছেন, "আহমেদাবাদ ওল্ড সিটির মুসলমানদের কাছে তিনি স্থানীয় রবিন হুড হয়ে উঠেছিলেন। মুসলমানদের মধ্যে তার প্রতি সহানুভূতি ছিল।"
"অবৈধ মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত মুসলিম মাফিয়াদেরও এখানে অবদান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে গুজরাতে অবৈধ মদের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে ওঠে। পুলিশের জোর করে টাকা আদায় করার মতো বিষয় এই ব্যবসাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।"
"গুজরাতে ব্যাপকভাবে মনে করা হতো, সে রাজ্যের 'বেশিরভাগ গুন্ডা' মুসলিম সম্প্রদায়ের।"
"বলা হয় যে 'এই গুন্ডারা' সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করত, কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কারণ তাদের রক্ষা করতেন কয়েকজন কংগ্রেস নেতা এবং এই গুন্ডারাই তাদের জন্য ভোট এনে দিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুজরাত, আহমেদাবাদ (ওল্ড সিটি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল লতিফ, গীতা জোহরি, প্রফেসর ক্রিস্টোফ ডাফ্রেলো, ঘনশ্যাম শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪১ পয়েন্ট (গুজরাতের দাঙ্গা), ১২০ জন (মৃত্যু), ১৯৮৫ (দাঙ্গা বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!