📌 চীনের তরুণ প্রজন্মের কাছে ৫৪ বছর বয়সী নৃতত্ত্ববিদ বিয়াও শিয়াং ‘আইডল’ হয়ে উঠেছেন। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনের অর্থ নিয়ে আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চীনে যুব বেকারত্বের হার ২১.৩ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা তরুণদের মধ্যে চাপ বৃদ্ধি করেছে
চীনের তরুণ প্রজন্মের কাছে একজন অধ্যাপক ‘আইডল’ হয়ে উঠেছেন। তিনি কোনো সেলিব্রিটি নয়, বরং ৫৪ বছর বয়সী নৃতত্ত্ববিদ ও অধ্যাপক বিয়াও শিয়াং। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনের অর্থ খোঁজা এবং সামাজিক প্রত্যাশার চাপ নিয়ে আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। চীনা তরুণী ঝিহান হান তাঁকে ‘স্বর্গ থেকে পাঠানো একজন তারকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের তরুণ প্রজন্মের কাছে ৫৪ বছর বয়সী নৃতত্ত্ববিদ বিয়াও শিয়াং ‘নোঙর’ হয়ে উঠেছেন। তাঁর বক্তব্য তাদের উদ্বেগ ও জীবনের অর্থ খোঁজার সংকটে সহায়তা করছে।
- 📌 সিঙ্গাপুরে শিয়াংয়ের একটি বক্তৃতায় প্রায় ৫০০ জন অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠান শেষে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ায় তরুণরা।
- 📌 চীনে ২০২৩ সালে যুব বেকারত্বের হার ২১.৩ শতাংশে পৌঁছায়। সরকার পরে এই তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দেয়।
- 📌 শিয়াং মনে করেন, চীনের তরুণরা বাইরের স্বীকৃতি ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনযাপনের চাপে আটকে পড়েছে। তিনি ‘অর্থপূর্ণ সম্পর্ক’ ও ‘বোঝাপড়া’ দিয়ে জীবনের অর্থ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
- 📌 বিয়াও শিয়াং বর্তমানে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যানথ্রোপলজির পরিচালক। তিনি নিজেকে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে দেখেন না, বরং মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে সহায়তা করার জন্য উৎসাহিত হন।
📰 বিস্তারিত
চীনের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হলেও তরুণদের জীবনে উদ্বেগের মাত্রা কমেনি। চাকরি, প্রেম-সম্পর্ক, বাড়ি কেনা এবং সামাজিক প্রত্যাশার চাপ তাদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলছে। ২৩ বছর বয়সী এক স্নাতক বলেন, শিক্ষা জীবন থেকে বাস্তব জীবনে প্রবেশের সময় অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তাই তরুণরা একজন ‘নোঙর’ খোঁজে যিনি তাদের অনুভূতি বুঝতে পারেন। বিয়াও শিয়াংয়ের বক্তব্য তাদের এই সংকটে সহায়তা করছে।
সিঙ্গাপুরে শিয়াংয়ের একটি বক্তৃতায় প্রায় ৫০০ জন অংশ নেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় মান্দারিন ভাষায় কথা বলার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে অনেকে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ান। এক তরুণী ঘটনাটিকে ‘একাডেমিক ফ্যান মিটিং’ হিসেবে আখ্যা দেন। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও শিয়াংয়ের বক্তৃতা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তাঁর নিজের সাবেক প্রতিষ্ঠান পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বক্তৃতার সময় আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তা সরাসরি সম্প্রচার করতে হয়েছিল।
শিয়াং মনে করেন, চীনের তরুণদের বড় সমস্যা হলো নিজেদের মূল্যায়নের জন্য বাইরের স্বীকৃতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, ভালো চাকরি বা সামাজিক মর্যাদাকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন তারা। এর পরিবর্তে অন্যদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজের জীবনের অর্থ খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। শিয়াং চীনা সমাজকে একটি ‘পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে’ রয়েছে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, আগের প্রজন্মের কাছে প্রচলিত ছিল—কঠোর পরিশ্রম করলে নিরাপদ চাকরি পাওয়া যাবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই সমীকরণ আর আগের মতো কার্যকর নয়।
"সন্দেহে পড়লে বিয়াও শিয়াংকে জিজ্ঞেস করো"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক বিয়াও শিয়াং, ঝিহান হান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ বছর (বিয়াও শিয়াং), ৫০০ জন (সিঙ্গাপুর বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারী), ২১.৩ শতাংশ (যুব বেকারত্বের হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!