📌 ঢাকার চকবাজার বাসিন্দা রহিমা ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যক্ষ্মা হাসপাতালে ভর্তি হন। শয্যা সংকটে অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি না পাওয়ায় তিনি এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে বর্তমানে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে
ঢাকার চকবাজার এলাকার বাসিন্দা রহিমা ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শ্যামলী এলাকার যক্ষ্মা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শয্যা সংকটে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না পাওয়ায় তিনি এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রহিমা বলেছেন, জ্বর ও পেটের ব্যথায় ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার চকবাজার বাসিন্দা রহিমা ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যক্ষ্মা হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
- 📌 গত বুধবার থেকে তিনি শ্যামলী এলাকার ২৫০ শয্যার যক্ষ্মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- 📌 হাসপাতালে বর্তমানে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে, তাদের মধ্যে কারও যক্ষ্মা নেই।
- 📌 স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল সারা দেশে ৬ হাজার ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- 📌 ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা সংকট রয়েছে।
- 📌 রহিমার স্বামী স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী এবং তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলেটি মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে আছেন।
- 📌 রহিমার জ্বর ১০৬ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল এবং ডাক্তার পরীক্ষায় ফ্যাটি লিভার ও ডেঙ্গু ধরা পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
রহিমা ইসলাম গত বুধবার থেকে ঢাকার শ্যামলী এলাকার যক্ষ্মা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বলেছেন, ‘জ্বর ছিল। আমার প্রেশার কমে যাচ্ছিল। পেটে ব্যথা। ডাক্তার বলেছিলেন, বাসায় থাকা ঠিক হবে না। কোনো হাসপাতালে সিট পাওয়া যায়নি। ভয় পেয়েছিলাম। সবশেষে রাত দুটোর দিকে যক্ষ্মা হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, এখানে ভর্তি হওয়া যাবে।’
যক্ষ্মা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০টি শয্যা বরাদ্দ রয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক আয়শা আখতার জানান, বর্তমানে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, ‘এদের কারও যক্ষ্মা নেই। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য একটি কেবিন ও একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা করা হয়।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল সারা দেশে ৬ হাজার ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও মুগদা হাসপাতালের প্রতিটিতে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী ছিল। শয্যা সংকটের কারণে এসব হাসপাতালের মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা করা হচ্ছে।
রহিমা ইসলামের স্বামী স্বর্ণালংকারের বাক্স ও প্যাকেটের ব্যবসা করেন। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলেটি মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে আছেন। রহিমা বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর। কোনো দিন জ্বর ১০৬ পর্যন্ত। ডাক্তারের কথামতো ওষুধ খাই, জ্বর কমে, আবার হয়। সঙ্গে পেটে ব্যথা। প্রথমে পরীক্ষায় দেখা যায়, ফ্যাটি লিভার। জ্বর কমে না। আবার পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে।’
"আমি বাসায় থাকতে চাইনি। ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হলাম। শয্যা না পাওয়ায় যক্ষ্মা হাসপাতালে আসতে হয়েছিল।"
রহিমা জানান, গত বুধবার এলাকার পরিচিত মেডিসিনের এক চিকিৎসক পরামর্শ দেন, রহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। বাসায় রাখা ঠিক হবে না। পরিস্থিতি বিশেষ ভালো নয়। পেটে পানি জমেছে। রহিমার পরিবারের লোকজন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নেন। কিন্তু কোনো হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যাচ্ছিল না। রহিমা বলেন, ‘যে হাসপাতালে ফোন করা হয়, তারা বলে ডেঙ্গু রোগীর জন্য সিট খালি নেই।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার শ্যামলী এলাকার যক্ষ্মা হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রহিমা ইসলাম, আয়শা আখতার (উপপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ শয্যা, ৬ হাজার ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী, ৬ জন ডেঙ্গু রোগী (যক্ষ্মা হাসপাতালে), ১০টি শয্যা (ডেঙ্গু রোগীদের জন্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!