📌 ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ — ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। কারিগরি জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি মুহূর্তে বিকল্প অক্সিজেন সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ — ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট ২০২৪ সাল থেকে অচল অবস্থায় রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রের কারিগরি জনবল ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে রোগীদের জন্য জরুরি মুহূর্তে বিকল্প অক্সিজেন সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দক্ষ অপারেটর ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া প্ল্যান্টটি চালু রাখা সম্ভব নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় স্থাপিত ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্ট ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে
- 📌 কারিগরি জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে
- 📌 জরুরি মুহূর্তে বিকল্প অক্সিজেন সরবরাহে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে
- 📌 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি
- 📌 ২০২২ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে স্থাপিত প্ল্যান্টের ৩ বছরের ওয়ারেন্টি মেয়াদ শেষ হয়েছে
📰 বিস্তারিত
২০২২ সালের শুরুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) চুক্তির আওতায় ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। প্রাকৃতিক বাতাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহের জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল। প্রথম তিন বছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মদিনা ট্রেডার্সের নিজস্ব প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে প্ল্যান্টটি পরিচালিত হতো। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি জনবল আসা বন্ধ হয়ে যায় এবং প্ল্যান্টটি বন্ধ হয়ে পড়ে।
হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রকিবুল আলম চয়ন বলেছেন, ‘প্ল্যান্টটি ২০২২ সালে এনএসআইয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের পর সেই টেকনিশিয়ানদের আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মেশিনটিতে বড় কোনো জটিল সমস্যা নেই। যথাযথ টেকনিক্যাল টিম ও অপারেটর দিলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি পুনরায় সচল করা সম্ভব। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সামর্থ্যে একা এটি চালু রাখা সম্ভব নয়।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জানিয়েছেন, ‘বিদ্যুৎ-চালিত এই প্ল্যান্ট নিয়মিত চালাতে তিন শিফটে অন্তত তিন থেকে চারজন দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে নিজস্ব কোনো টেকনিশিয়ান নেই। নিয়মিত তদারকি ও লগবই মেইনটেন না করে মেশিনটি চালালে শর্টসার্কিট, আগুন লাগা এমনকি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মেশিনটি বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পুনরায় রিমাইন্ডার দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মদিনা ট্রেডার্সের প্রতিনিধি ওমর ফারুক বলেছেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের ওয়ারেন্টি মেয়াদে আমাদের নিজস্ব টেকনিশিয়ান দিয়ে প্ল্যান্টটি সচল রাখা হয়েছিল। মেয়াদ শেষে সিএমএসডির ভেরিফিকেশন টিম সরেজমিন তদন্ত করে সব সন্তোষজনক পাওয়ায় আমাদের ১০% পারফরম্যান্স গ্যারান্টির টাকা ছাড় করে দেয়। চুক্তি শেষ হওয়ায় এখন এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারি দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।’
"প্ল্যান্টটি ২০২২ সালের দিকে এনএসআইয়ের বিশেষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। ২০২৪ সালের পর সেই টেকনিশিয়ানদের আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মেশিনটিতে বড় কোনো জটিল সমস্যা নেই। যথাযথ টেকনিক্যাল টিম ও অপারেটর দিলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি পুনরায় সচল করা সম্ভব।"
"জরুরি চিকিৎসায় সব সময় বিকল্প সাপোর্ট থাকা জরুরি। প্রধান লাইন কোনো কারণে বন্ধ হলে বিকল্প প্রাকৃতিক অক্সিজেনের এই প্ল্যান্টই হতে পারত একমাত্র ভরসা, যা এখন অচল হয়ে আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রকিবুল আলম চয়ন, ফিরোজ জামান, ওমর ফারুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, ২০২৪ সাল, ৩১ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!