📌 যুক্তরাজ্যের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সিঁড়ি বেয়ে ওঠা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৯% কমায়। গবেষণায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
সারা দিনের ক্লান্তি মিটাতে বাসায় ফিরে সিঁড়ির সামনে দাঁড়ালে অনেকেরই খারাপ লাগে। বিশেষত লিফট না থাকলে চার-পাঁচতলা উঠতে দম বের হয়ে যায়। কিন্তু যুক্তরাজ্যের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা শরীরের জন্য দারুণ উপকার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করলে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৯ শতাংশ কমে যায়। পাশাপাশি যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৪ শতাংশ কমে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাজ্যের গবেষণায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিয়মিত সিঁড়ি বেয়ে ওঠা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৯ শতাংশ কমায়।
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিলেন নারী এবং ৩৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সী।
- 📌 দিনে অন্তত ছয়বার সিঁড়ি বেয়ে উঠলে হার্টের স্বাস্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
- 📌 গবেষণার প্রধান লেখক সোফি প্যাডক বলেছেন, সিঁড়ি ব্যবহারের ছোট ছোট অভ্যাসেও শরীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা ‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকস’ হিসেবে পরিচিত — অল্প সময়ের ব্যায়াম যা হার্ট, পেশি ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
- 📌 সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় বুকে ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা বা তীব্র মাথাব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
📰 বিস্তারিত
নরফোক অ্যান্ড নরউইচ ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল ও ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার গবেষকেরা ৯টি পৃথক গবেষণার তথ্য একত্রিত করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড় ১৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণাটি ‘আমেরিকান জার্নাল অব কার্ডিওভাসকুলার ড্রাগস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা হৃদরোগমুক্ত রাখার একটি সহজ উপায়। তবে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে — অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের স্মৃতি থেকে সিঁড়ি ব্যবহারের তথ্য দিয়েছিলেন, ফলে তথ্যে কিছু ভুল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক সোফি প্যাডক জানান, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা শরীরের জন্য উপকারী। তবে তিনি সতর্ক করেন, যারা নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করেন, তাঁরা আগে থেকেই স্বাস্থ্যসচেতন হতে পারে। তাই শুধু সিঁড়ি ব্যবহারের কারণেই তাঁদের হার্টের ঝুঁকি কমেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শুরুতে একতলা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস বাড়ানো উচিত। মেট্রোতে চলন্ত সিঁড়ি বা এস্কেলেটর ব্যবহার না করে সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহার করা যায়। তবে সিওপিডি (COPD) বা ফুসফুসের জটিল রোগ থাকলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব লুইসভিল হেলথের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ক্যাথরিন পোলগিয়ার্স বলেন, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার পর যদি বুকে ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা বা তীব্র মাথাব্যথা হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
"সিঁড়ি বেয়ে ওঠা শরীরের জন্য দারুণ উপকার করে। ছোট ছোট অভ্যাসেও শরীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দিনে ছয়বার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে না পারলেও ছোট ছোট সিঁড়ি বেয়ে ওঠার বড় উপকার।" — সোফি প্যাডক, গবেষণার প্রধান লেখক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (নরফোক অ্যান্ড নরউইচ ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোফি প্যাডক, কার্ল এরিকসন, ক্যাথরিন পোলগিয়ার্স, বিশেষজ্ঞরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ ৮০ হাজার (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী), ৩৯ শতাংশ (হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে যায়), ২৪ শতাংশ (মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায়), ৫৩ শতাংশ (নারী অংশগ্রহণকারী), ৩৫-৮৪ বছর (বয়স পরিসর), ১৪ বছর (গড় পর্যবেক্ষণকাল), ৯টি (গবেষণা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!