📌 মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৫টি চিকিৎসক পদ শূন্য। প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবে রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জনবল সংকটে এক্স-রে ও প্যাথলজি বিভাগও বন্ধে পড়েছে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৪১টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ২৫টি শূন্য রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়া এই হাসপাতালে ১৪ বছর পরও ৫০ শয্যার উপযোগী জনবল নিয়োগ করা হয়নি। জনবল সংকটে রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন এবং কিছু রোগী শয্যা না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা পাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ২৫টি শূন্য
- 📌 ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩১ শয্যার জনবল নিয়ে সেবা প্রদান করা হচ্ছে
- 📌 প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবে স্বাভাবিক প্রসবের পরও জটিল রোগীদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়
- 📌 এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না জনবল সংকটে
- 📌 প্যাথলজি বিভাগে একাই ১ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের দায়িত্বে ১০০% কাজ করতে হয়
- 📌 প্রতিদিন ৬০০-৭০০ জন রোগী বহির্বিভাগে এবং ১২০-১৪০ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন
- 📌 গতকাল ৫৬ জন রোগী শয্যা না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা পেয়েছেন
📰 বিস্তারিত
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২২০টি অনুমোদিত পদে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫৩ জন। এর মধ্যে ৬৭টি পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষত চিকিৎসকদের পদে ৪১টি মধ্যে ২৫টি শূন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১২টি পদে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জনের ২৯টি পদে কর্মরত ১২ জন। উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তার ১২টি পদে কর্মরত ৭ জন। নার্সের ৩৩টি পদে কর্মরত ২৮ জন।
হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অভিজিৎ বণিক বলেছেন, “প্রতিদিন প্রচুর পরীক্ষা হয়। জনবল না থাকায় আমাকে একাই রক্ত সংগ্রহ, নমুনা প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার কাজ করতে হয়। এতে কাজের ওপর চাপ পড়ে এবং কাজে বিঘ্ন ঘটে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ জন এবং জরুরি বিভাগে ১২০ থেকে ১৪০ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। ভর্তি থাকেন ৫৫ থেকে ৬৫ জন। গতকাল হাসপাতালে ৫৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। শয্যা না পেয়ে কয়েকজন রোগী বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেয়েছেন। সেখানেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসমিন জানিয়েছেন, “জনবল চেয়ে আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যায়নি।”
"গাইনি ডাক্তার দেখানোর জন্য স্ত্রীকে হাসপাতালে এনেছিলাম। এখানে গাইনি ডাক্তার নেই। আমরা গরিব মানুষ, প্রাইভেটে গিয়ে কীভাবে চিকিৎসা করাব?"
— পরেশ কাহার, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের দরিদ্র রোগী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অভিজিৎ বণিক (মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট), সিনথিয়া তাসমিন (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা), হাসিনা আক্তার (চিকিৎসক), পরেশ কাহার (রোগী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫টি শূন্য চিকিৎসক পদ, ৫০ শয্যা, ১৪ বছর, ২২০টি অনুমোদিত পদ, ১৫৩ জন কর্মরত, ৬৭টি শূন্য পদ, ৬০০-৭০০ জন বহির্বিভাগের রোগী, ৫৬ জন শয্যা না পেয়ে চিকিৎসা পেয়েছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!