📌 সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর ২২ শিশুতে ইনফেকশন দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে। খতনা করার পর নিয়মিত ওষুধ ও ড্রেসিং না দেওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে
সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর বেশ কয়েকজন শিশুতে ইনফেকশনসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা শুরু হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে যেয়ে ২২ শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পৌঁছান। তারা সেখানে ১২০ শিশুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং এবং ২২ শিশুতে ইনফেকশন শনাক্ত করে চিকিৎসা প্রদান করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর ২২ শিশুতে ইনফেকশন দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে।
- 📌 ১২০ শিশুকে পরীক্ষা করা হয়, এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন ড্রেসিং করা হয়।
- 📌 ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিনে ২১০ শিশুর খতনা করা হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত ওষুধ ও সতর্কতা না নেওয়ায় ইনফেকশন হয়েছে।
- 📌 ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, খতনার পর নিয়মিত ওষুধ ও ড্রেসিং না দেওয়াই প্রধান কারণ।
- 📌 টেকনাফ ইউএনও জানান, শিশুরা বর্তমানে ভালো অবস্থায় এবং আগামী এক সপ্তাহে সুস্থ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর শিশুদের মধ্যে ইনফেকশনসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা শুরু হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সেন্টমার্টিনে পৌঁছান। তারা সেখানে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে খতনা করা শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করেন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ভালো অবস্থায় রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, খতনা করার পর বেশ কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। পরে পরিবারগণ শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
এই কর্মসূচি আয়োজন করেছিল আল-মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন। গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবকাশ রিসোর্টে শায়খ মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমীর তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সেখানে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিতে মেডিকেল টিমটি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে যায়।
"খতনা করা শিশুদের মধ্যে ইনফেকশনের খবর পাওয়ার পর আমরা সেন্টমার্টিনে যান। সেখানে ১২০ শিশুকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ না খাওয়ানো, সময়মতো ড্রেসিং না করা এবং খতনা কার্যক্রমে নিয়োজিতদের অসচেতনতার কারণে এসব সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।"
ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেসিং করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। তারা শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছে। ইউএনও জানান, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে ইনফেকশন পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা ভালো অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ও ড্রেসিং করা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেন্টমার্টিন দ্বীপ, টেকনাফ, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. নওশাদ আলম কানন, শায়খ মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, টেকনাফ ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ শিশুতে ইনফেকশন, ১২০ শিশু পরীক্ষা, ১০ শিশুর ড্রেসিং, ২১০ শিশুর খতনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!