📌 দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঋতু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীদের মধ্যে সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও পেটব্যথার মতো রোগের সংখ্যা বেড়েছে
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। ৫০ শয্যার বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে হাসপাতাল। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও বিকল্প শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন
- 📌 জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন
- 📌 প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ জন প্রসূতি স্বাভাবিক প্রসব করাচ্ছেন
- 📌 সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও পেটব্যথার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে
- 📌 ৫০ শয্যার হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
- 📌 আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার পারভেজ বলেছেন, ওষুধের মজুত কিছুটা কমে গেছে
📰 বিস্তারিত
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহরিয়ার পারভেজ জানান, মধ্য আশ্বিনে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এলাকায় মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়েছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট (অ্যাজমা), ডায়রিয়া ও পেটব্যথার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়াও কিডনি, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও আবহাওয়ার পরিবর্তনে জটিলতা তৈরি করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাতজন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) করানো হচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলেন, শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে বা বিকল্প শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডা. শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওষুধের ব্যবহারও বেড়েছে। তবে আপাতত ওষুধের মজুত সংকটের আশঙ্কা নেই।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, তাঁর মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পর তাঁর মেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তিনি বলেন, ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
"মৌসুমি রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শাহরিয়ার পারভেজ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শাহরিয়ার পারভেজ (আরএমও), আব্দুল আজিজ (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শয্যা, ৭০-৮০ জন ভর্তি রোগী, ৬০০ বহির্বিভাগের রোগী, ১১০-১২০ জরুরি বিভাগের রোগী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!