📌 স্ক্যাবিস বা খোস-পাঁচড়া বাংলাদেশে জাতীয় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ ১৫ হাজারাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘনবসতি, ভুল চিকিৎসা ও সচেতনতার অভাবের কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। ডাক্তারদের পরামর্শ: পরিবারের সবাই একসাথে চিকিৎসা নিতে হবে এবং ৫% পারমেথ্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে হবে
স্ক্যাবিস বা খোস-পাঁচড়া বাংলাদেশে জাতীয় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজি এই সংক্রমণকে বর্তমান জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিলেট থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, গাজীপুরসহ প্রায় সব জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষত আবাসিক হোস্টেল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণের হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ হাজারাধিক রোগী সিলেট অঞ্চলে মাত্র আড়াই মাসে স্ক্যাবিস চিকিৎসা নিয়েছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও সমন্বিত চিকিৎসা কর্মসূচি চালু হয়েছে।
- 📌 ৪০ শতাংশ সংক্রমণ ঘটেছে আবাসিক হোস্টেল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।
- 📌 স্টেরয়েড মলম যেমন বেটনোভেট বা ডার্মোভেট ব্যবহার করলে সংক্রমণ চাপা পড়ে এবং বিস্তার লাভ করে।
- 📌 ৫% পারমেথ্রিন ক্রিম হলো প্রমাণিত চিকিৎসা। গলা থেকে পা পর্যন্ত সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
- 📌 ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জামা-কাপড় ধুয়ে, কড়া রোদে শুকিয়ে ইস্ত্রি করতে হবে।
- 📌 ৪ দিন পলিথিন ব্যাগে বেঁধে রাখলে পরজীবী মারা যায়।
📰 বিস্তারিত
স্ক্যাবিস বা খোস-পাঁচড়া সারকোপটেস স্কাবিয়াই নামক ক্ষুদ্র পরজীবী দ্বারা হয়। এই পরজীবী ত্বকের নিচে সুড়ঙ্গ করে ডিম পাড়ে, যার ফলে তীব্র প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং রাতে তীব্র চুলকানি হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির আঙুলের ফাঁকে, কব্জি, বগল, কোমর, নাভির চারপাশে এবং যৌনাঙ্গের আশেপাশে ছোট ছোট লাল দানা ও পানিযুক্ত ফুসকুড়ি দেখা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা ও পায়ের তলাতেও লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
পরিবারে একাধিক সদস্যের একই স্থানে চুলকানি থাকলে স্ক্যাবিসের সম্ভাবনা বেশি। অবহেলিত সংক্রমণ থেকে চামড়ায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, পুঁজযুক্ত ঘা এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনির প্রদাহের ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ডাঃ অমৃত লাল হালদার বলেছেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসায় এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। স্কুল, মাদ্রাসা ও আবাসিক হোস্টেলে স্ক্রিনিং, ফার্মেসিতে স্টেরয়েড মলমের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ এবং উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জরুরি।
স্ক্যাবিসের প্রধান কারণ হলো ঘনবসতি ও সংস্পর্শ। একই বিছানা, তোয়ালে ও পোশাক ভাগাভাগি করে ব্যবহারের মাধ্যমে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। এছাড়া ভুল ও অসম্পূর্ণ চিকিৎসা, পারিবারিক চিকিৎসার অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি এই সংক্রমণের প্রধান কারণ।
"পরিবারের সকল সদস্যকে একই দিনে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হবে, লক্ষণ না থাকলেও। প্রমাণিত চিকিৎসা হলো ৫% পারমেথ্রিন ক্রিম, সঠিক নিয়মে গলা থেকে পা পর্যন্ত ব্যবহার। চিকিৎসকের পরামর্শে এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয়বার প্রয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, গাজীপুর, ঢাকা, রোহিঙ্গা ক্যাম্প
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডাঃ অমৃত লাল হালদার (নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ, বারডেম)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ শতাংশ (সংক্রমণ হার), ১৫ হাজার (রোগী), ৫% (পারমেথ্রিন ক্রিম), ৬০ ডিগ্রি (তাপমাত্রা), ৪ দিন (পলিথিন ব্যাগে রাখা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!