📌 ক্যান্সারের চিকিৎসায় চুল হারানোর ভয় মেনে নেওয়ার উদাহরণ দিয়েছেন উপস্থাপক সামিয়া আফরিনের পরিবার। স্বামী ও ছেলে নিজেরাই মাথা ন্যাড়া করে স্ত্রীকে সাহস দিয়েছেন। সামিয়া ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছেন এবং পরিবার তার পাশে থেকে সমর্থন দিচ্ছেন
ক্যান্সারের চিকিৎসায় চুল হারানোর মানসিক কষ্ট মেনে নেওয়ার উদাহরণ দিয়েছেন উপস্থাপক সামিয়া আফরিনের পরিবার। স্ত্রীর পাশে থেকে প্রতি মুহূর্তে সমর্থন জানাতে স্বামী ও ছেলে নিজেরাই মাথা ন্যাড়া করেছেন। সামিয়া বর্তমানে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছেন এবং পরিবারের সদস্যরা তার সাথে থাকতে চান না কেবল চিকিৎসার সময়েই, বরং প্রতিটি মুহূর্তে তার মনোযোগ দিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামিয়া আফরিনের স্বামী এস এম রেজাউল ইমরান ও ছেলে আহানাফ আরাবি নিজেরাই মাথা ন্যাড়া করেছেন স্ত্রীর চুল হারানোর ভয় মেনে নেওয়ার উদাহরণ হিসেবে দিতে গিয়ে।
- 📌 প্রথমে ছেলে আহানাফ আরাবি মায়ের হাতে নিজের মাথা ন্যাড়া করান, তারপর নিজেও মাথা ন্যাড়া করেন। স্বামী রেজাউল ইমরানও স্ত্রীর পাশে থেকে মাথা ন্যাড়া করেছেন।
- 📌 সামিয়া আফরিন ২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন। পরে ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং বর্তমানে দেশে কেমোথেরাপি চলছে।
- 📌 সামিয়া বলেছেন, ‘চুল তো মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য। আত্মবিশ্বাসটাই মূল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হাঁটাচলা করতে পারছি, এটাই অনেক বড় পাওয়া।’
- 📌 সামিয়া জেনেটিক পরীক্ষায় শরীরে জিনগত ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর ক্যান্সার ফিরে আসবে না এমন আশা করছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
ক্যান্সারের চিকিৎসায় চুল হারানোর ভয় মেনে নেওয়ার উদাহরণ দিয়েছেন উপস্থাপক সামিয়া আফরিনের পরিবার। সামিয়া বর্তমানে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। চিকিৎসক আগেই জানিয়েছিলেন, কেমোথেরাপির প্রভাবে তার চুল পড়ে যেতে পারে। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। প্রথমে চুল ছোট করেন, পরে ছেলের হাতে নিজের মাথা ন্যাড়া করান। কিন্তু এরপর ছেলে নিজেও মাথা ন্যাড়া করে হাসিমুখে হাজির হন। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন জানাতে একই সিদ্ধান্ত নেন রেজাউল ইমরানও।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাথা ন্যাড়া করার একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে নিজের অনুভূতির কথা জানান সামিয়া। কেমোথেরাপির কারণে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ না করে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সামিয়া বলেন, ‘চুল তো মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য। চুল থাকুক বা না থাকুক, আত্মবিশ্বাসটাই মূল। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। হাঁটাচলা করতে পারছি, এটাই অনেক বড় পাওয়া।’
সামিয়া ২০২২ সালে প্রথম কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকের পরামর্শে সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন, ক্যান্সার চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করিয়েই দেশে ফিরে আসার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের এক চিকিৎসক তাকে ইমিউনোথেরাপির পরামর্শ দেন। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা নিতে রাজি হন সামিয়া। প্রতি ২১ দিন পরপর নিতে হতো এই চিকিৎসা। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। প্রথম থেরাপির পর ঢোক গিলতে পারতেন না, ত্বকে চুলকানি হতো।
২০২৩ সালে দেশে ফেরার পরও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগেছেন সামিয়া। একপর্যায়ে পাতলা পায়খানার সমস্যায় ডায়াপার পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। যন্ত্রণার তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে সামিয়া বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবের সময় যে যন্ত্রণা হয়, অনেকটা সে রকম যন্ত্রণা হতো।’
"আশা করছি, শরীরে আর ক্যান্সার ফিরে আসবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বনানী, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সামিয়া আফরিন, এস এম রেজাউল ইমরান, আহানাফ আরাবি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৬ (বছর), ২০২২ (ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার বছর), ২৭ (দাম্পত্য জীবনের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!