📌 রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু দাবি মেনে নিয়েছে এবং সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে রোগীরা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে বিপাকে পড়ছেন। হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহম্মেদ জানান, কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসা কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি**: রাজশাহী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২১ অক্টোবর বুধবার সকাল ৮টায় কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
- 📌 **পাঁচ দফা দাবি**: চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার করা, রোগীর স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা — এগুলো তাদের দাবি।
- 📌 **চিকিৎসাসেবা ব্যাহত**: হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগী মুক্তা আক্তারের বাবার মতো অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থাপত্র না পাওয়ায় বিপদে পড়ছেন।
- 📌 **সংকটের কারণ**: ক্যানুলা, মাইক্রোপোর, স্যালাইন ও সিরিঞ্জের মতো চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি, নিরাপত্তার অভাব, অতিরিক্ত রোগীর চাপ — এগুলো কর্মবিরতির মূল কারণ।
- 📌 **হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া**: ক্যাজুয়ালটি বিভাগ ১ নভেম্বর চালু করার পরিকল্পনা, স্যালাইন ও সিরিঞ্জের ঘাটতি সমাধান করা, ১০০ জন আনসার সদস্যের চাহিদা জানানো — এগুলো তাদের পদক্ষেপ।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির মাধ্যমে তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার করা, রোগীর স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা। ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বলেছেন, “দুই থেকে তিন মাস ধরে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট চলছে। খিঁচুনিতে আক্রান্ত নবজাতকের জন্য জীবন রক্ষাকারী ওষুধও প্রায়ই পাওয়া যায় না।”
হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহম্মেদ জানান, কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে চিকিৎসা কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসাসামগ্রী ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।”
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সভাপতি শাহাদাত মাহমুদ বলেন, “১ হাজার ৩০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকলেও সরকারি বরাদ্দ ও ওষুধের সরবরাহ নির্ধারিত শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী আসে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসাসামগ্রী ও জনবলের সংকট তৈরি হচ্ছে।”
"ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বেতন বাড়ানোর জন্য আমরা কর্মবিরতি ডakenনি। চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিরসন এবং নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এ কর্মসূচি শুরু করেছি।"
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জানান, স্যালাইন ও সিরিঞ্জের ঘাটতি ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। অন্যান্য ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর কিছু সরবরাহ এসেছে, তবে বাকিটা আসতে প্রায় ১৫ দিন লাগতে পারে। এ সময় সংকট এড়াতে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আরও ১০০ জন আনসার সদস্যের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা জানানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৩৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি বিভাগের সামনে পুলিশ বক্স নির্মাণের কাজ চলছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুশফিকুর রহমান (সাধারণ সম্পাদক), শাহাদাত মাহমুদ (সভাপতি), শেখ শামিম আহম্মেদ (মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৩০০ শয্যা, ৪-৫ হাজার রোগী, ১৫ দিন, ১০০ জন আনসার সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!