📌 পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিশ্রামাগার না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তি ভোগছে। সাত দশক পুরনো হাসপাতালে প্রতিদিন ১০০-১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেয়, কিন্তু বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন
পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিশ্রামাগার নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেয়, কিন্তু বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে বা গাছতলায় বসে থাকতে হয় তাদের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে **বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়নি** সাত দশকেও, ফলে রোগী ও স্বজনরা ভোগান্তি ভোগছে
- 📌 প্রতিদিন **১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী** চিকিৎসা নেয়, কিন্তু **৫০০ শয্যাবিশিষ্ট** হাসপাতালে বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই
- 📌 **বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের** আবদুল লতিফ রাত কাটাতে বাধ্য হন পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায়
- 📌 **খুলনার দিঘলিয়া** থেকে আসা পরিমল কুমার মণ্ডল স্টেশনে রাত কাটাতে হয়
- 📌 **মাগুরা** থেকে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই, সরকার যদি করত তাহলে সবার ভালো হতো’
- 📌 হাসপাতালের আবাসিক মনোরোগ চিকিৎসক **এ কে এম শফিউল আযম** বলেন, সরকার **আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে রূপান্তর** করার পরিকল্পনা করছে
- 📌 **১০ অক্টোবর** বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক’
📰 বিস্তারিত
পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিশ্রামাগার নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের বয়োবৃদ্ধ আবদুল লতিফের ছেলে মানসিক রোগে আক্রান্ত। তিনি জানান, আগের দিন রওনা হয়ে পাবনায় পৌঁছাতে রাত হয়ে যাওয়ায় পাননি বিশ্রামের জায়গা। বাধ্য হয়ে হাসপাতালসংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায় ছেলেসহ রাত কাটাতে হয় তাঁকে। সকালে আসেন বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে। শুধু তিনি নন, তাঁর মতো শতাধিক মানুষ প্রতিদিন একই ভোগান্তি পোহাতে বাধ্য হন।
খুলনার দিঘলিয়া থেকে রোগী নিয়ে আসা পরিমল কুমার মণ্ডল জানান, খুলনা থেকে ট্রেনযোগে ঈশ্বরদী স্টেশনে নেমেছেন রাতে। রোগী নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে স্টেশনেই রাত কাটাতে হয়েছে তাঁদের। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের বহির্বিভাগে নেই কোনো বসার বা বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা। যদি একটা বিশ্রামাগার থাকত, তাহলে সবার উপকার হতো।’ মাগুরা থেকে রোগী নিয়ে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এত দূর থেকে জার্নি করে এসে এখানে যে একটু বিশ্রাম নেব কিংবা বসার ভালো পরিবেশ—কিছুই নাই। এ কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সরকার যদি এখানে থাকার সুব্যবস্থা করত, তাহলে সবার ভালো হতো।’
হাসপাতালের আবাসিক মনোরোগ চিকিৎসক **এ কে এম শফিউল আযম** স্বীকার করেন, ‘বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বা তাঁর স্বজনদের বিশ্রাম নেওয়া বা থাকার ব্যবস্থা নেই।’ তিনি বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে রূপান্তর করার চিন্তা করছে সরকার। সেই প্রকল্পে একটা আলাদা ওয়ার্ড থাকবে, যেখানে রোগীরা থাকবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে রোগীরা ভর্তির সুযোগ পাবে। আর রোগীর স্বজনদের জন্য আলাদা হলরুম বা ডরমিটরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
"মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দৃশ্যত স্বাস্থ্যবান অথবা নীরোগ থাকাটাই স্বাস্থ্য নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই স্বাস্থ্য। সুতরাং, কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা মানসিক হাসপাতাল, পাবনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল লতিফ, পরিমল কুমার মণ্ডল, সাইফুল ইসলাম, এ কে এম শফিউল আযম, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ শয্যা, ১০০-১৫০ জন রোগী, ১০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!