📌 সিজার অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে ফরিদপুরের একটি নার্সের পরিবার। রাজবাড়ীর ইউএনও বিথী আক্তারের বাড়িতে গিয়ে শিশুসন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবার দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলায় গজ থেকে যায় এবং সেটি রেখেই সেলাই করা হয়
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজার অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে অসুস্থ নার্স বিথী আক্তারের পরিবার। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার চার মাসের শিশুসন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খানও উপস্থিত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজার অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলায় নার্স বিথী আক্তারের পেটে গজ থেকে যায় এবং সেটি রেখেই সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন
- 📌 বিথীর শারীরিক অবস্থা খারাপ, ওজন কমে ৩৯ কেজি থেকে ৬১ কেজি; বর্তমানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন
- 📌 ইউএনও বলেন, বিথীর মতো নার্সের সঙ্গে এমন অভিযোগের পর সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে, সেটি ভাবার বিষয়
- 📌 জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিথীর পরিবারকে নগদ সহায়তা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজার অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলায় নার্স বিথী আক্তারের পেটে গজ থেকে যায় এবং সেটি রেখেই সেলাই করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর বিথীকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়। পরবর্তীতে তার পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়। বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। বর্তমানে বিথী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে তার শারীরিক ওজনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। একসময় তার ওজন ছিল ৬১ কেজি; বর্তমানে তা কমে ৩৯ কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার চার মাসের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খানও উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও বিথীর চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। প্রশাসনের উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয়রা বিথীর পাশে প্রশাসনের দাঁড়ানোর বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বলেন, ‘বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরই তার চার মাসের শিশুসন্তান ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। বিথীর মতো একজন নার্সের সঙ্গে যদি চিকিৎসা নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি হতে পারে, সেটিও ভাবার বিষয়। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যথাযথভাবে দেখবে।’ তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিথীর পরিবারকে নগদ অর্থ এবং তার শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তার পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থাকবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করারও চেষ্টা করা হবে।
"বিথীর মতো একজন নার্সের সঙ্গে যদি চিকিৎসা নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি হতে পারে, সেটিও ভাবার বিষয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ উপজেলা, উজানচর ইউনিয়ন, তমিজ উদ্দিন মৃধাপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. সাইফুল হুদা (ইউএনও), বিথী আক্তার (নার্স), মো. রাকিবুল ইসলাম (স্বামী), মো. মুনতাসির হাসান খান (উপজেলা সহকারী কমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ সেপ্টেম্বর, সকাল সাড়ে ১০টা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, ৬ মে, ৬১ কেজি (পূর্ব ওজন), ৩৯ কেজি (বর্তমান ওজন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!