📌 নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গে মৃত্যুবরণকারী দুই মাস বয়সী শিশু ফাতেমা হাসান রিমির পরিবার ও স্থানীয়রা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে। স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে শিশু মারা গেছে।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গে মৃত্যুবরণকারী দুই মাস বয়সী শিশু ফাতেমা হাসান রিমির মৃত্যুর পর তার পরিবার ও স্থানীয়রা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ধারাবাহিক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শিশুটির মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাগুলো স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফাতেমা হাসান রিমি নামের দুই মাস বয়সী শিশু নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
- 📌 শিশুটির মৃত্যুর পর তার স্বজনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন।
- 📌 শিশুটির মা উম্মে সালমা দাবি করেছেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
- 📌 চিকিৎসকদের দাবি, শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল বুকের দুধ শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার কারণে।
- 📌 উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহরিন আক্তার জানান, হাসপাতালে তৃতীয় পক্ষের লোকদেরও ভাঙচুরে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- 📌 জেলা সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন নির্দেশ দিয়েছেন, ঘটনায় তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।
📰 বিস্তারিত
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণকারী শিশু ফাতেমা হাসান রিমি ছিলেন বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির মেয়ে। শিশুটি হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা তিনটার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির পরই কর্তব্যরত নার্স ইনজেকশন ও স্যালাইন দিয়েছিলেন। এরপর শিশুটির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। অক্সিজেন প্রয়োজন পড়লে হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব জানানো হয়। কিছুক্ষণ পর শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির মা উম্মে সালমা অভিযোগ করেছেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) কক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, রোগীর স্বজন ও উৎসাহী কিছু মানুষ ‘মব’ সৃষ্টি করে ভাঙচুর চালিয়েছেন। তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
"শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না। যথাযথ চিকিৎসাই শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে। এরপরও শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। হামলা-ভাঙচুরে উৎসাহী কিছু লোকও অংশ নিয়েছে।"
— উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহরিন আক্তার
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহরিন আক্তার জানান, শিশুটি এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার আগে বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুটি চিকিৎসা নিয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্যালাইন চলার সময় মা শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। এ সময় বুকের দুধ শিশুটির শ্বাসনালিতে আটকে যায়। এতে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে মৃত্যু হয়েছে।’
জেলা সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন জানান, চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় কারও কোনো ধরনের গাফিলতি রয়েছে কি না, সেটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাতেমা হাসান রিমি (মৃত শিশু), উম্মে সালমা (মা), শাহরিন আক্তার (চিকিৎসক), মিজানুর রহমান (ইউএনও), মো. আনোয়ার হোসেন (জেলা সিভিল সার্জন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ মাস (শিশুর বয়স), ৩টা (মৃত্যু সময়), ৯টা (ভাঙচুরের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!