📌 রাতের নিস্তব্ধতা ও শরীরের কর্টিসল হরমোনের কমে যাওয়া কারণে রাতের দুশ্চিন্তা বা নাইট টাইম অ্যাংজাইটি বাড়ে। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই অবস্থা ঘুম ও মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকে জানা যায়, রাতের চিন্তার দৌড়াদৌড়ি সবচেয়ে বেশি হয় এবং এটি ঘুমের গভীরতাকে কমিয়ে দেয়
রাতের নিস্তব্ধতা ও শরীরের হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে অনেকের মনে রাতের দুশ্চিন্তা বা নাইট টাইম অ্যাংজাইটি বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা জানান, এই অবস্থা শুধু মনকে নয়, শরীর ও ঘুমের গুণগতমানও ক্ষতিগ্রস্ত করে। দিনের চাপ ও ব্যস্ততার পর রাতে যখন মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ কমে যায়, তখন দুশ্চিন্তাগুলো সহজে মনের দখল নেয়। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড স্টাডি অব অ্যাংজাইটির পরিচালক এমি ব্রাউন বলেছেন, রোগীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, সারা দিন ব্যস্ত থাকার পর রাতে ঘুমাতে গেলেই মস্তিষ্ক হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং চিন্তার ঝড় শুরু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাতের দুশ্চিন্তা বা নাইট টাইম অ্যাংজাইটি দিনের তুলনায় তিনটি প্রধান কারণেই বেশি হয়: দিনের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মনের খালি থাকা, কর্টিসল হরমোনের কমে যাওয়া এবং মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার হ্রাস
- 📌 রাতের নিস্তব্ধতা ও শারীরিক লক্ষণ যেমন বুক ধড়ফড়, ঘাম, পেশির টান মানুষকে আরও আতঙ্কিত করে তোলে, যা মনকে বিপদ মনে করিয়ে দেয়
- 📌 ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা (২০২৪) প্রমাণ করে যে, অ্যাংজাইটি রাতের সময় সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায় এবং এটি ‘মাইন্ড আফটার মিডনাইট হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত
- 📌 দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অতীত আঘাত, জিনগত কারণ, স্টেরয়েড ও ক্যাফেইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অ্যাংজাইটি বাড়াতে পারে
- 📌 অ্যাংজাইটি শরীরে লক্ষণ হিসেবে হৃৎস্পন্দন বাড়া, বুক ধড়ফড়, ঘাম, পেশির টান, মাথা ও পেটের ব্যথা, এবং ঘুমের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক দেখা দেয়
📰 বিস্তারিত
দিনের আলো নিভে গেলে অনেকের মনে দুশ্চিন্তার ঝড় শুরু হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, দিনের চাপ ও ব্যস্ততার কারণে দিনে মন ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাতে যখন কাজ বা মানুষের সংস্পর্শ থেকে মুক্তি পায়, তখন দুশ্চিন্তাগুলো সহজে মনের দখল নেয়। এছাড়া রাতে শরীরের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়াও দীর্ঘ সময় জেগে থাকার ফলে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। ফলে রাতের নিস্তব্ধতা ও শারীরিক লক্ষণ যেমন বুক ধড়ফড়, পেশির টান বা দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস মানুষকে আরও আতঙ্কিত করে তোলে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড স্টাডি অব অ্যাংজাইটির পরিচালক এমি ব্রাউন বলেছেন, রোগীরা প্রায়ই বলেন, ‘সারা দিন ব্যস্ত থাকার পর রাতে ঘুমাতে গেলেই মস্তিষ্ক হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে।’ তিনি আরও বলেন, রাতের অ্যাংজাইটি ও ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা থেকে জানা যায় যে, এই অবস্থা ঘুমের গভীরতাকে কমিয়ে দেয়। ফলে পরের দিন ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়, যা অ্যাংজাইটিকে আরও বাড়িয়ে একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি করে।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের (সেন্ট লুইস) সহকারী অধ্যাপক রেবেকা কক্সের নেতৃত্বে ২০২৪ সালে প্রকাশিত গবেষণা ‘সাইকিয়াট্রি রিসার্চ’ জার্নালে বলা হয়েছে, অ্যাংজাইটি সারা দিনের বিভিন্ন সময়ে বাড়লেও রাতে চিন্তার দৌড়াদৌড়ি সবচেয়ে বেশি হয়। গবেষকরা এই অবস্থাকে ‘মাইন্ড আফটার মিডনাইট হাইপোথিসিস’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অতীত আঘাত, জিনগত কারণ, স্টেরয়েড ও ক্যাফেইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অ্যাংজাইটি বাড়াতে পারে।
“রাতের অ্যাংজাইটি ও ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা থেকে জানা যায় যে, এই অবস্থা ঘুমের গভীরতাকে কমিয়ে দেয়। ফলে পরের দিন ক্লান্তি ও খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়, যা অ্যাংজাইটিকে আরও বাড়িয়ে একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি করে।” — এমি ব্রাউন, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড স্টাডি অব অ্যাংজাইটির পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় (সেন্ট লুইস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এমি ব্রাউন, রেবেকা কক্স
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ বছর (চকলেটের সম্ভাব্য নিশ্চিহ্ন হওয়ার সময়সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!