📌 ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকসংকটের কারণে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনুমোদিত ৬৮টি চিকিৎসক পদে মাত্র ৩০ জন কর্মরত থাকায় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে
নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা সম্প্রসারণের পরেও চিকিৎসকসংকটের কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৮৫০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, কিন্তু অনুমোদিত শয্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে অনুমোদিত ৬৮টি চিকিৎসক পদে মাত্র ৩০ জন কর্মরত
- 📌 ১০০ শয্যার হাসপাতাল থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পরও জনবল বৃদ্ধি না হওয়ায় সেবা ব্যাহত
- 📌 ২০১৮ সালে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায়, ২০২৫ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও ৪৭ কোটি টাকায় নির্মিত নতুন ভবন পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে না
- 📌 ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬ জন রোগী
- 📌 আইসিইউ ও এইচডিইউ চালু না হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা সীমাবদ্ধ
- 📌 দুটি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট থাকায় রোগী পরিবহনে সমস্যা
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা সম্প্রসারণের পরও চিকিৎসকসংকটের কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাসপাতালটিকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা চালু করা যায়নি।
১০০ শয্যার হাসপাতালের অনুমোদিত ৬৮টি চিকিৎসক পদে মাত্র ৩০ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে ৭টি এবং ১২টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে ৬টি শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক ছাড়াও দ্বিতীয় শ্রেণির ৯৭টি পদের মধ্যে ৪২টি, তৃতীয় শ্রেণির ৪২টি পদের মধ্যে ১৯টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২২টি পদের মধ্যে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাজাহারুল আমীন বলেন, “অর্ধেকের বেশি জনবলসংকট নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে একজন চিকিৎসককে দেড় থেকে দুই শত রোগী দেখতে হয়।”
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে যে, চিকিৎসক পাওয়া যায় না। আটপাড়ার বানিয়াজানের নুরুল আমীন শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার দিন ধরে ভর্তি ছিলেন। তিনি বলেন, “সব সময় চিকিৎসক পাওয়া যায় না। সমস্যা বেশি হলে জরুরি বিভাগে যেতে হয়।”
আইসিইউ ও উচ্চ নির্ভরশীলতা কেন্দ্র (এইচডিইউ) চালু না হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা সীমাবদ্ধ। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সই দুই বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট। মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স এনে বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে সেটি বেশির ভাগ সময় মেডিক্যাল টিমের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় রোগী পরিবহনের জন্য পাওয়া যায় না।
"অর্ধেকের বেশি জনবলসংকট নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে একজন চিকিৎসককে দেড় থেকে দুই শত রোগী দেখতে হয়।"
— মাজাহারুল আমীন, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাজাহারুল আমীন, নুরুল আমীন, মো. আনোয়ারুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ শয্যা, ৩০ জন চিকিৎসক, ৮৫০ রোগী, ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬ রোগী, ৪৭ কোটি টাকা, ২২৯ নতুন পদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!