📌 লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় প্রসবোত্তর জটিলতা থেকে মারা যান রত্না বেগম (৩০)। তার ছোট দুই সন্তানের বাবা-মা অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা বন্ধ রয়েছে
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার সেবা বন্ধ থাকায় প্রসবোত্তর জটিলতা থেকে মারা যান রত্না বেগম (৩০)। মৃত্যুর আগে তিনি একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেছিলেন। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে উপজেলা হাসপাতালে অস্ত্রোপচার না করায় রত্নাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ই মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সকালে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রত্না বেগম (৩০) প্রসবোত্তর জটিলতা থেকে মারা যান, কারণ উপজেলা হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সেবা বন্ধ ছিল।
- 📌 রত্নার স্বামী সাইফুল ইসলাম সিএনজি চালক, যিনি বাড়িতে নবজাতক ছাড়াও ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাশিশু আয়েশা আক্তারকে লালনপালন করছেন।
- 📌 ৫০ শয্যার রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতি থাকলেও ২ বছর ধরে সেবা বন্ধ।
- 📌 গাইনি ও সার্জারি চিকিৎসক সংকট থাকায় অস্ত্রোপচার চালু করা সম্ভব নয়। প্রতিদিন ৮০০ রোগী চিকিৎসা নেয়, কিন্তু জরুরি অস্ত্রোপচার না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন।
- 📌 রত্নার খালা সেলিনা আক্তার বলেন, “মায়ের বুকের দুধ পেল না নবজাতক। ছোট আয়েশাও শুধু মায়ের খোঁজে বেড়াচ্ছে। আমরা দু’সন্তানের বাবা-মা অসহায়।”
📰 বিস্তারিত
রত্না বেগমের মৃত্যু ঘটে প্রসবোত্তর জটিলতার কারণে। গর্ভফুল বের না হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করার মতো চিকিৎসক না থাকায় রত্নাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ই মৃত্যু হয়।
রত্না বেগমের স্বামী সাইফুল ইসলাম সিএনজি চালক। তিনি বাড়িতে নবজাতক ছাড়াও ১৩ মাস বয়সী কন্যাশিশু আয়েশা আক্তারকে লালনপালন করছেন। রত্নার খালা সেলিনা আক্তার বলেন, “আমরা খুব অসহায়। লক্ষ্মীপুর সদরে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়াটুকুও অন্য একজনের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছিল। মায়ের বুকের দুধ পেল না নবজাতক। ছোট আয়েশাও শুধু তার মায়ের খোঁজে বেড়াচ্ছে।”
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতি থাকলেও ২ বছর ধরে সেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গাইনি ও সার্জারি চিকিৎসক সংকটের কারণে অস্ত্রোপচার চালু করা সম্ভব নয়। প্রতিদিন ৮০০ রোগী চিকিৎসা নেয়, কিন্তু জরুরি অস্ত্রোপচার না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন।
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ৩৫০ থেকে ৪০০ বর্গফুটের অপারেশন থিয়েটার দেখতে সাজানো-গোছানো হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।
"আমার স্ত্রীর গাইনিবিষয়ক সমস্যা ছিল। চিকিৎসক জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, অপারেশন থিয়েটার আছে, কিন্তু অপারেশন হয় না। সরকারি হাসপাতালে যদি এই সেবা থাকত, তাহলে বাইরে গিয়ে এত টাকা খরচ করতে হতো না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রায়পুর উপজেলা, লক্ষ্মীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রত্না বেগম (৩০), সাইফুল ইসলাম, সেলিনা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শয্যার হাসপাতাল, ৮০০ রোগী, ৩৫০-৪০০ বর্গফুট অপারেশন থিয়েটার, ১৩ মাস বয়সী আয়েশা আক্তার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!