📌 স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেসের ১০ বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে কম খরচে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে ৫৯টি এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ৩১টি মেশিনে সেবা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নভেম্বর শেষে সেবা বন্ধ হলে দরিদ্র রোগীদের জীবন বিপদে পড়বে।
বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে কম খরচে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর ১০ বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার কারণে দেশের অসংখ্য দরিদ্র কিডনি রোগী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে জীবন নিয়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর চুক্তি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেবা বন্ধের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে, যা দেশের কিডনি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধের আশঙ্কা
- 📌 জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে ৫৯টি এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১টি ডায়ালাইসিস মেশিনে সেবা দেওয়া হচ্ছে
- 📌 দরিদ্র কোটায় প্রতি সেশনের খরচ ৪০০ থেকে ৬২১ টাকা এবং সাধারণ রোগীদের জন্য ২ হাজার ৯৩৫ টাকা পর্যন্ত
- 📌 রোগীরা বলছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডায়ালাইসিসের খরচ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পড়ে, যা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়
📰 বিস্তারিত
২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তির আওতায় কার্যক্রম শুরু করেছিল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্যান্ডরিনোফি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (শেরেবাংলা নগর) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে সেবা দুটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত: সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত রোগীরা প্রতি সেশনের জন্য ৪০০ থেকে ৬২১ টাকা এবং সাধারণ রোগীরা প্রতি সেশনের জন্য ২ হাজার ৯৩৫ টাকা পর্যন্ত খরচ দিতে হয়। দরিদ্র রোগীদের জন্য এই সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডায়ালাইসিসের খরচ অনেক বেশি।
রোগীরা জানান, তাদের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এই সেবা তাদের একমাত্র আশা। শ্যামলী থেকে আসা রোগী শারমিন মির্জা বলেন, “কিডনির চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমি বিক্রি করেছি, গয়না বিক্রি করেছি। এখন আর সম্বল নেই। যদি এই সেবা বন্ধ হয়ে যায়, আমার বিষ খাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।” অন্য রোগী কাজী মুন্না বলেন, “এখানে ডায়ালাইসিস করতে খরচ পড়ে ৬২১ টাকা। বাইরে করাতে গেলে ১০ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়। আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
"ডায়ালাইসিসের একজন রোগীর পক্ষে এই ধকল নেওয়া অনেক কষ্টের। এটা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসাই বন্ধ করে দিতে হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট (শেরেবাংলা নগর) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রোগী শারমিন মির্জা, কাজী মুন্না, মো. রাজু এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (চুক্তি মেয়াদ), ৫৯টি (ডায়ালাইসিস মেশিন, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট), ৩১টি (ডায়ালাইসিস মেশিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ), ৪০০-৬২১ টাকা (দরিদ্র কোটায় সেশন খরচ), ২ হাজার ৯৩৫ টাকা (সাধারণ রোগীদের সেশন খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!